28 C
Kolkata
September 18, 2026
রাজ্য

হামিম তদন্তে পাকিস্তান যোগ ও বিদেশি অর্থের হদিশ খুঁজছে এসটিএফ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে হানি ট্র্যাপের অভিযোগও

কলকাতা— হাওড়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর সম্ভাব্য হামলার ছক, পাকিস্তানি যোগাযোগ, বিদেশি অর্থ লেনদেন এবং হানি ট্র্যাপ চক্রের অভিযোগকে সামনে রেখে তদন্ত আরও জোরদার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত হামিম মণ্ডলের একাধিক ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি সংযোগের সূত্র মিলেছে। তবে এই সব অভিযোগের তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে সেগুলির সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া বাকি।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিম একাধিক ভুয়ো পরিচয়ে সমাজমাধ্যম এবং বার্তা আদানপ্রদানের বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত। ‘রানা’, ‘আবির’, ‘শেহেজাদ’, ‘ভাট্টি গ্যাং’ এবং ‘হাবিব’ নামে বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে কথাবার্তা চলত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই যোগাযোগের নেপথ্যে পাকিস্তান-ভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তে হামিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। এসটিএফের দাবি, ঝাড়খণ্ডের এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে কোনও বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এসটিএফের সন্দেহ, হামিমের কার্যকলাপের নেপথ্যে বিদেশ থেকে নির্দেশ আসত। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্রও তাঁদের হাতে এসেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন এবং তা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট তরুণীর সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।

অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। হামিমের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং অর্থের উৎস পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে কোনও অর্থ এসেছে কি না এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে, তার হদিশ খুঁজছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিদেশি সিম কার্ড ব্যবহারের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোটা নেটওয়ার্কের বিস্তার, সম্ভাব্য বিদেশি মদত এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তকারী সংস্থাও স্পষ্ট করেছে, এই মুহূর্তে তদন্ত চলমান এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের আগে কোনও অভিযোগকে চূড়ান্ত বলে ধরা যাবে না।

উল্লেখ্য, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু তথ্য উদ্ধার হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment