কলম্বো— ভারতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একের পর এক সমালোচনার মুখে পড়লেও সেগুলিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ গৌতম গম্ভীর। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা সমাজমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নয়, দেশের হয়ে ট্রফি জেতাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর টেস্ট ক্রিকেটে গম্ভীরের সময়টা খুব একটা স্বস্তির হয়নি। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে ভারত পরাজিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরেও বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ অবশ্য ২-২ ফলে শেষ হয়েছিল। সেই ফলই এখনও পর্যন্ত গম্ভীরের মেয়াদে টেস্ট ক্রিকেটে অন্যতম ইতিবাচক দিক।
এই পরিস্থিতিতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গম্ভীর সরাসরি জানান, বাইরের আলোচনা তাঁর কাজের উপর কোনও প্রভাব ফেলছে না। তিনি বলেন, ‘আমার কাজ ট্রফি জেতা। আমি শুধু সেটাই বিশ্বাস করি এবং সেটাই নিয়ে ভাবি। কে কী বলছে, সমাজমাধ্যমে কত প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, সেগুলি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকরের সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিষয়েও মুখ খোলেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ। গম্ভীর জানান, তাঁদের কথাবার্তায় ব্যক্তিগত সমালোচনা বা বাইরের বিতর্কের কোনও জায়গা নেই। মূলত দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত এবং ভারতীয় দলের উন্নতির পথ নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।
ভারতের সামনে এখন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের সুযোগ। প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টেও একই রকম আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে চাইছে ভারতীয় দল। ম্যাচের আগে প্রথম একাদশ প্রকাশ না করলেও গম্ভীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, ২০টি উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এমন বোলিং আক্রমণই মাঠে নামানো হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন সেরা বোলিং আক্রমণ খেলানোর চেষ্টা করব, যারা ২০টি উইকেট নিতে পারবে।’
এর ফলে কুলদীপ যাদবকে দ্বিতীয় টেস্টে খেলানো হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রথম টেস্টে তিনি দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ২৫ ওভার বল করেছিলেন। তবে কুলদীপের উপর আস্থা রেখেছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, কোনও বোলার কত ওভার করবেন, সেটি অনেক সময় অধিনায়কের সিদ্ধান্তের উপরও নির্ভর করে।
গম্ভীর বলেন, ‘কুলদীপ ভাল বোলার। তবে কোনও কোনও সময় একজন বোলারকে কতটা ব্যবহার করা হবে, সেটি অধিনায়কের সিদ্ধান্তের উপরও নির্ভর করে।’
প্রথম টেস্টে ভারতের জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া মানব সুতার এবং দেবদত্ত পাড়িক্কালেরও প্রশংসা করেন গম্ভীর। মানব ১০টি উইকেট নিয়েছেন। পাড়িক্কাল দুই ইনিংস মিলিয়ে ২১১ রান করে নজর কেড়েছেন। তরুণ ক্রিকেটারদের একটি-দু’টি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে বিচার না করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ।
তাঁর বক্তব্য, ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকবেই। তাই দলের ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রাখা এবং তাঁদের নিজেদের প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। একটি বা দুটি ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে কোনও ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত নয় বলেও মত তাঁর।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় ভারতের অবস্থান নিয়েও গম্ভীর বিশেষ চিন্তিত নন। বর্তমানে ভারত পঞ্চম স্থানে থাকলেও র্যাঙ্কিংকে তিনি বড় বিষয় বলে মনে করছেন না। তাঁর দাবি, ইংল্যান্ড সফরের পর ভারতীয় দল মোটের উপর ভাল টেস্ট ক্রিকেট খেলেছে।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পরিবর্তে তিন ম্যাচের সিরিজ আয়োজনের পক্ষেও মত দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর যুক্তি, দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথম ম্যাচে হেরে গেলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুব কম থাকে। সেখানে তিন ম্যাচের সিরিজে একটি দল খারাপ শুরু করার পরেও সিরিজে ফিরে আসার যথেষ্ট সুযোগ পায়।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের আগে গম্ভীরের বক্তব্যে তাই দুটি বিষয় স্পষ্ট—বাইরের সমালোচনায় তিনি কান দিতে চান না এবং দলের ফলাফলকেই নিজের কাজের মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন। তাঁর লক্ষ্যও পরিষ্কার, ভারতীয় দলকে ধারাবাহিক ভাবে জিতিয়ে বড় ট্রফি এনে দেওয়া।
