চেন্নাই— পলিটেকনিক কলেজে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তামিলনাড়ু জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার রাজ্যের ১৮টি জায়গায় একযোগে হানা দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহে নামে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চেন্নাই, তিরুচিরাপল্লি, কোয়ম্বত্তূর এবং মদুরাই-সহ একাধিক শহরে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, সরকারি পলিটেকনিক কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চক্র সক্রিয় ছিল।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। চেন্নাই সিটি সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে। পরে ২০২১ সালে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে, শিক্ষক নিয়োগ পর্ষদের মাধ্যমে ১,০৫৮ জন পলিটেকনিক প্রভাষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছিল।
অভিযোগ, দিল্লির একটি বেসরকারি সংস্থার কিছু কর্মী পরীক্ষার্থীদের ওএমআর উত্তরপত্রে কারচুপি করে ফলাফল বদলে দিয়েছিলেন। এর ফলে কিছু প্রার্থী বেআইনিভাবে চাকরি পান। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগ তালিকায় নাম তোলার জন্য কয়েকজন প্রার্থী দালালদের মাধ্যমে ২৫ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তে ১৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির নাম উঠে আসে। প্রায় ১৯৬ জন প্রার্থী এই দুর্নীতির সুবিধাভোগী বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করে ইডি।
কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য হল আর্থিক লেনদেনের নথি, বৈদ্যুতিন তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে অর্জিত অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কারা সেই অর্থের সুবিধাভোগী হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে তামিলনাড়ুতে একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি, বেআইনি বালি খাদান, সরকারি সংস্থার আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় ইডি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। পলিটেকনিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার এই অভিযানও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তল্লাশি অভিযান চলাকালীন বিভিন্ন জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইডি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
