ইস্টবেঙ্গল এফসির সামনে এ বার কঠিন পরীক্ষা। ডুরান্ড কাপের প্রথম সেমিফাইনালে বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লাল-হলুদের প্রতিপক্ষ এসসি দিল্লি। এক দিকে টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করা ইস্টবেঙ্গলের শক্ত রক্ষণ, অন্য দিকে চার ম্যাচে ২১ গোল করা দিল্লির দুরন্ত আক্রমণ। ফলে ম্যাচে মূল লড়াইটা হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ বনাম এসসি দিল্লির আক্রমণের।
ইস্টবেঙ্গল ঘরের মাঠে নামায় কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। ২০২৬ ডুরান্ড কাপে এখনও পর্যন্ত ১৪টি গোল করেছে তারা। প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে ০-১ গোলে হারার পর টানা তিন ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছে লাল-হলুদ। সিআইএসএফ প্রোটেক্টরসকে ৮-০ এবং সাউথ ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় সেনা দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় তারা।
তবে সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন। এসসি দিল্লি এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোল করা দল। চার ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা ২১। জামশেদপুর এফসিকে ২-১, ডিফেন্ডার্স এফসিকে ৭-০ এবং ভারতীয় বায়ুসেনাকে ৭-১ গোলে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে এফসি রেংদাইকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।
দিল্লির আক্রমণের মূল ভরসা ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড রদ্রিগুইনহো। চার ম্যাচে সাত গোল করেছেন তিনি। ফলে তাঁকে আটকানোর দায়িত্ব ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের উপরই সবচেয়ে বেশি। আনোয়ার আলি, সন্দীপ মান্ডি, জয় গুপ্তা এবং হার্দিক ভাটদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।ইস্টবেঙ্গলের সমস্যার জায়গা আক্রমণভাগ। চোটের কারণে পি ভি বিষ্ণু এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে
বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন। ফলে গোলের মধ্যে থাকা বিষ্ণুর অনুপস্থিতি লাল-হলুদের জন্য বড় ধাক্কা।
বিষ্ণু না থাকায় আক্রমণের দায়িত্ব বাড়বে বিপিন সিং, এডমন্ড লালরিন্ডিকা এবং ডেভিড লালনসাঙ্গাদের উপর। মাঝমাঠ থেকে দানি রামিরেজ এবং মহম্মদ রশিদকেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। রামিরেজের পাস এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এসসি দিল্লির আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম অস্ত্র হতে পারে।

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর প্রাথমিক পর্বে আল আরাবির বিরুদ্ধে ৪-১ গোলে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের পর ইস্টবেঙ্গল শিবিরে আত্মবিশ্বাসও রয়েছে। সেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল হাবাসের দল। এ বার ডুরান্ডের সেমিফাইনালেও সেই মানসিক দৃঢ়তা কাজে লাগাতে চাইবে তারা।
ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাসের দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। সেই কৌশলই এসসি দিল্লির গোলমেশিনকে থামানোর প্রধান অস্ত্র হতে পারে। অন্য দিকে, দিল্লির পর্তুগিজ কোচ তোমাশ চোর্জের দল কলকাতার ফুটবল পরিবেশে নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবল ধরে রাখতে চাইবে।
ম্যাচটি হবে ১৯ অগস্ট, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। সরাসরি সম্প্রচার হবে Sony Sports Network ও SonyLIV-এ।
