32.7 C
Kolkata
August 11, 2026
রাজ্য

দেবরাজ চক্রবর্তীর আরও সম্পত্তির হদিস, প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য ইডিকে জানাল পুলিশ

সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনা ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্তে আরও সম্পত্তির হদিস পেল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের সঙ্গে যোগ থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিচিতদের নামে থাকা প্রায় ৩০টি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। সব মিলিয়ে ওই সম্পত্তিগুলির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। এই সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-কে জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজের স্ত্রী তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি। পুলিশ সূত্রে দাবি, দমদম, নিউ টাউন ও বাগুইআটির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও দেবরাজের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, গত পাঁচ বছরে এই সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।


লিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে ওই সম্পত্তিগুলির প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থের উৎস জানার চেষ্টা চলছে। পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে সম্পত্তি কেনা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ইতিমধ্যেই দেবরাজের বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং তোলাবাজির অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেবরাজ ও অদিতির সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশের অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে অথবা আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি, সম্পত্তি গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো অভিযোগও রয়েছে।

অদিতির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় দেবরাজ ও অদিতি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষাকবচের আবেদন করেছিলেন। শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে অদিতিকে রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

গত ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে দেবরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে নতুন করে উঠে আসা প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পত্তিগুলির সঙ্গে তোলাবাজি বা সিন্ডিকেট-চক্রের অর্থের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Related posts

Leave a Comment