দিল্লির ৯ নম্বর মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ১৪ জন সাংসদ। যদিও বৈঠকে কারা কারা ছিলেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ হয়নি।
তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ঘাটালের সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেতা দেব, যার আসল নাম দীপক অধিকারী। সূত্রের খবর, তিনি অত্যন্ত নীরবে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। একটি নীল রঙের শার্ট এবং জিনস পরে বৈঠকে যোগ দেন তিনি। এমনকি বৈঠকের সময় নিজেকে আড়াল করেই রাখেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ্যে এলেও সেখানে তাঁকে দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছনোর পর উপস্থিত অনেকেই উঠে দাঁড়ান। সেই সময় দেবের সঙ্গে শুভেন্দুর সৌজন্য বিনিময়ও হয় বলে খবর। যদিও এই বিষয়ে কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
সূত্রের আরও দাবি, বৈঠকে উপস্থিত সাংসদরা আপাতত বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পথে হাঁটছেন না। বরং তাঁরা লোকসভায় একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। সেই লক্ষ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই সম্ভাব্য ব্লকের মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলি ঘোষদস্তিদারের নামও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
দেবকে ঘিরে জল্পনার পেছনে রয়েছে গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, আর ভোটে লড়তে আগ্রহী নন। সেই সময় ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়া এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার কারণে তিনি হতাশ বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছিল।
পরে অবশ্য তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর অবস্থান বদলান দেব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার পর ফের নির্বাচনে লড়তে রাজি হন তিনি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের আশ্বাসও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দেব দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সৌজন্য সম্পর্কও বরাবরই ভাল। বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও অতীতে একাধিকবার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ছবি দেখা গিয়েছে।
তবে দিল্লির এই বৈঠক নিয়ে এখনও পর্যন্ত দেব নিজে কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। ফলে তিনি আদৌ নতুন কোনও রাজনৈতিক পথের দিকে এগোচ্ছেন কি না, নাকি এটি শুধুই একটি রাজনৈতিক বৈঠক ছিল, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
