31.3 C
Kolkata
June 8, 2026
রাজ্য

১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা শুভেন্দু সরকারের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ভুয়ো জব কার্ড ও বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বিশেষ নজর

সংবাদ কলকাতা: রাজ্যে পুনরায় চালু হওয়া ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কোনও ধরনের দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম বা স্বচ্ছতার অভাব বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। চলতি মাসের শুরু থেকে প্রকল্পটি পুনরায় চালু হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ডধারীর তথ্যভান্ডার নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো নাম এবং অযোগ্য উপভোক্তাদের অভিযোগ সামনে আসায় এবার প্রতিটি সক্রিয় শ্রমিকের শতভাগ ই-কেওয়াইসি যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রশাসনের মতে, অতীতে ভুয়ো মাস্টাররোল, কাজ না করেও মজুরি তোলা এবং তথ্য গোপনের মতো অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই কারণে এবার প্রকল্পের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের স্থানের জিও-ট্যাগিং, প্রকল্প ব্যয়ের নির্ভুল হিসাব, মাস্টাররোল তৈরি, ইলেকট্রনিক পরিমাপ নথি এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও আধার-ভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এর ফলে ভুয়ো উপভোক্তা এবং আর্থিক অনিয়ম অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অতীতে অপর্যাপ্ত পরিকল্পনা, দুর্বল তদারকি, অতিরিক্ত প্রকল্প অনুমোদন এবং ভুয়ো হিসাবের কারণে প্রকল্পের গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার সেই সমস্ত দুর্বলতা দূর করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলাশাসক এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের জেলা ও ব্লক স্তরে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাজের প্রকৃত অগ্রগতি, সম্পদের গুণমান, পরিমাপ নথি, নির্মাণসামগ্রী কেনা এবং শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের মতো বিষয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি অর্থের ব্যবহার, আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা বা ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে কোনও ধরনের গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরীক্ষা রিপোর্ট, পরিদর্শন তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হবে।

শুধু ১০০ দিনের কাজ নয়, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পও এবার প্রশাসনের কড়া নজরে এসেছে। মুখ্যসচিব পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিবের কাছে প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা পুনরায় যাচাই করার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন।

অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় বহু অযোগ্য ব্যক্তিকে ঘর নির্মাণের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সরকারি কোষাগারের বড় ক্ষতি হয়েছে। সেই কারণে ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দুই পর্যায়ের উপভোক্তাদের সম্পূর্ণ পুনরায় যাচাই করা হবে। বিশেষ করে যাঁদের নাম অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা একই ব্যক্তি একাধিকবার সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

প্রশাসনের মতে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই এবার কঠোর নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment