‘ভারতে সরকার বদলায় নির্বাচনে, রাস্তায় নয়’
ভারতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ চলছে এবং দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেঠমালানির বক্তব্য, ভারতের উত্থান অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, ভারত দুর্বল নয়, বরং আর দুর্বল ও নীরব থাকতে রাজি নয় বলেই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিরোধের মুখে পড়ছে।

সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করে ভারত সরকারের উপর আস্থা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দিল্লিতে সরকার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখানো বা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের গণতন্ত্রের প্রকৃত চরিত্র বুঝতে পারছেন না।
জেঠমালানির দাবি, ভারতে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র সাংবিধানিক পথ নির্বাচন। তাঁর কথায়, ‘ভারতে সরকার রাস্তার সংঘর্ষে বদলায় না, নির্বাচনের মাধ্যমে বদলায়।’
নিজের পোস্টে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-বিদেশসচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের একটি মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন। জেঠমালানির দাবি, ওই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে বিশ্বের বড় শক্তিগুলি ভারতের উত্থানকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং তা বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

দিল্লিতে চলা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনগুলি শুধুমাত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভারতীয় রাষ্ট্রকে দুর্বল করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তাঁর মতে, সংসদে সরকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিরোধীরা সংখ্যার বিচারে পিছিয়ে থাকায় সংসদের বাইরে রাজনৈতিক লড়াই জোরদার করার চেষ্টা করছে।
তবে এই সমস্ত দাবির পক্ষে জেঠমালানি কোনও প্রমাণ বা সরকারি তথ্য উপস্থাপন করেননি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারী সংগঠনও এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
পোস্টের শেষে জেঠমালানি বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের শক্তি দেশের ভোটারদের হাতে। তাঁর দাবি, ‘ভারতে সরকার নির্ধারণ করেন ভোটাররা, রাস্তার হিংসা বা বিদেশি প্রভাব নয়।’
