কার্শিয়াং: একসময় গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের মুখ, পরে দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা— সেই বিমল গুরুং কি ফের পাহাড়ের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরছেন? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সাম্প্রতিক পাহাড় সফরের পর সেই প্রশ্নই জোরালো হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কার্শিয়াংয়ের জনসভায় বিজেপি নেতৃত্বের পাশাপাশি হাসিমুখে উপস্থিত ছিলেন বিমল গুরুং। পাহাড়ের উন্নয়ন, জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্ত এবং স্বচ্ছ নিয়োগের বার্তার মধ্যেই গুরুংয়ের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির সাফল্যের পিছনে গুরুংয়ের সমর্থন ও সাংগঠনিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
২০১৭ সালে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়ানোর পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন গুরুং। সেই সময় পাহাড়ের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাবও কমে যায়। সামনে চলে আসেন অনীত থাপা, অজয় এডওয়ার্ডদের মতো নেতারা। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে রাজনৈতিক সমীকরণ।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা করেছিলেন গুরুং। পাহাড় ও সমতলে সক্রিয় প্রচারেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। নির্বাচনের পরে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর আবারও সক্রিয় হয়েছেন তিনি। জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে পাহাড় সফরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অতীতে গোর্খাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘোষণার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে গুরুংয়ের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও।
একসময় সুবাস ঘিসিং-কে সরিয়ে পাহাড়ের রাজনীতির প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন বিমল গুরুং। ২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, পাহাড়ের রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব আবারও বাড়ছে।
