সংবাদ কলকাতা: শারদোৎসবের আগে রাজ্যের গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থার হাল ফেরাতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, গ্রামীণ রাস্তা মেরামতি, সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য মোট প্রায় ২,০৫০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। এর মধ্যে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ, রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ এবং অসমাপ্ত পথশ্রী প্রকল্পের কাজ শেষ করার টাকা রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ থেকে গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য ৮০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। এর সঙ্গে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অন্য দিকে, আগের সরকারের পথশ্রী প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা এবং বকেয়া অর্থ মেটানোর জন্য আরও ৭৫০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, পুরনো বকেয়া মিটে গেলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক রাস্তার কাজ ফের শুরু করা সম্ভব হবে।
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের জন্য আরও কয়েকটি প্রকল্পকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভিবি জি রামজি প্রকল্পের আওতায় রাস্তা উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার কাজও চালানো হবে। ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এলাকায় নতুন রাস্তা তৈরি এবং পুরনো রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বুধবার নবান্নে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার আগে কোন কোন রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন, কী ভাবে কাজের গতি বাড়ানো যায় এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, শারদোৎসবের সময় গ্রামাঞ্চলে মানুষের যাতায়াত অনেক বেড়ে যায়। পুজোকে কেন্দ্র করে বাজার, হাট, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই এই সময়ে রাস্তার বেহাল দশা থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসনের দাবি, সেই কারণেই পুজোর আগেই জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোথায় রাস্তা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গ্রামীণ এলাকার বহু রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ এবং বকেয়া অর্থও রাস্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন বরাদ্দে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের ফলে রাজ্যের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কতটা উন্নতি হয় এবং পুজোর আগেই কতগুলি রাস্তার কাজ শেষ করা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
