November 5, 2026
Featured

কুণালের ওপর হামলায় ফের পুলিশের রিপোর্ট তলব মানবাধিকার কমিশনের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগের তদন্তে পুলিশের দেওয়া রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মানবাধিকার কমিশন। বেলেঘাটা থানার জমা দেওয়া রিপোর্টে মামলার নম্বর, অভিযুক্তদের নাম এবং আইনের বিভিন্ন ধারার উল্লেখ থাকলেও তদন্তের বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে মনে করছে কমিশন। রিপোর্টটিকে ‘অত্যন্ত অস্পষ্ট’ বলে উল্লেখ করে আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে নতুন করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটকেও ওই সময়ের মধ্যে নিজেদের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনের ৪ নভেম্বরের নোটশিটে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করতে সেদিন হাজির হয়েছিলেন রাজ্য যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় পাল এবং উত্তর কলকাতা যুব তৃণমূলের সভাপতি শক্তিপ্রতাপ সিং। কোনও সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলেও বেলেঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের পাঠানো রিপোর্ট কমিশনের সামনে পেশ করা হয়। ১২ অক্টোবরের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ নভেম্বর ওই রিপোর্ট জমা পড়ে। অভিযোগকারী পক্ষের প্রতিনিধিরা রিপোর্টটি পড়ে তার প্রতিলিপি চেয়েছেন।
অভিযোগের সূত্রপাত গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে। ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে এবং পরদিন বেলেঘাটায় সভা ও কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় কুণাল ঘোষের গাড়ি সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের দ্বারা আক্রান্ত হয় বলে অভিযোগ। বেলেঘাটায় এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে ভাঙচুর চালানো হয়। গাড়িতে থাকা কুণাল ঘোষ ও তাঁর সহযোগীদের গুরুতর শারীরিক আঘাত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশের রিপোর্টে ২৯ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া বেলেঘাটা থানার ২৪৩ নম্বর মামলার উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা একটি হাতুড়ি বাজেয়াপ্ত করেছেন এবং পেন ড্রাইভের মাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই তথ্যের বাইরে তদন্তে কী কী অনুসন্ধান হয়েছে, কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং মামলার অগ্রগতি কতদূর, তা রিপোর্টে স্পষ্ট নয়। ফলে আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, কালীঘাট থানার পক্ষ থেকে অভিযোগকারী পক্ষের দপ্তরের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে। কমিশন সেটিকে সন্তোষজনক বলে বিবেচনা করেছে। তবে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের রিপোর্ট না আসায় ওই কমিশনারেটকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে যাতে কোনও পক্ষের কর্মীদের উপর হামলা বা তাঁদের সম্পত্তির ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে স্থায়ী নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন। অবাধ যাতায়াত, মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও মিছিল করার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ বা অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তবে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাওয়া এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার পরবর্তী শুনানি ২৬ নভেম্বর বিকেল ৩টেয়।

Related posts

Leave a Comment