29 C
Kolkata
October 24, 2026
রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি

সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপুজো শেষ হতেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সোমবার সকালের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। এরপর সেটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে। এর প্রভাবে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগাম সতর্কতা জারি করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে শুক্রবার একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। শনিবার নিম্নচাপ অঞ্চলটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে রবিবার সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে সোমবার সকালের মধ্যে সমুদ্রের উপরেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে।


ঘূর্ণিঝড়টি পরবর্তী দু’দিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরের কিছু অংশে বৃষ্টি শুরু হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনও কোনও এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উপকূলবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে কোনও সতর্কতা না থাকলেও মঙ্গলবার থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের সতর্কবার্তা মেনে নিরাপদে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



উত্তরবঙ্গেও সপ্তাহের শেষ দিকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ওই দু’দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

এদিকে, শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.১ ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি বেশি। আগামী চার দিনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে তার পর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে। আপাতত রাতের তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই।

Related posts

Leave a Comment