সংবাদ কলকাতা: তিন ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪৬ রান। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তখন প্রবল চাপে ভারত। একটা সময় মনে হচ্ছিল, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারতে চলেছে ভারতীয় দল। কিন্তু সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। তিলক বর্মা ও নীতীশ রেড্ডির দুরন্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। দলের এই লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। তাঁর মতে, ভারতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে।
ম্যাচ শেষে শ্রেয়স বলেন, চাপের মুখে দল কী ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এই ম্যাচে তারই প্রমাণ মিলেছে। ধারাবাহিক ভাবে উইকেট পড়তে থাকায় একটা সময় তাঁরও মনে হয়েছিল, ম্যাচ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু তিলক ও নীতীশ যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, তা প্রশংসনীয়। সতীর্থদের কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নমন ধীরের ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা করেছেন ভারত অধিনায়ক।
শ্রেয়সের কথায়, দলের প্রত্যেকেই ম্যাচ জেতাতে পারেন। এই ম্যাচে আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে। তিলক ও নীতীশের মানসিক দৃঢ়তা ভারতকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে জয় এনে দিয়েছে। পাশাপাশি নমন ধীরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় দলে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের জায়গা ক্রমশ পাকা করছেন নমন। ব্যাট হাতে রান করার পাশাপাশি বল হাতেও দলের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ফিল্ডিংয়েও তাঁর অবদান রয়েছে। নমনকে একজন সম্পূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবেই দেখছেন শ্রেয়স।

সতীর্থকে নিয়ে ভারত অধিনায়ক বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে দু’ম্যাচ আগেও একই রকম অবদান রেখেছিলেন নমন। বল হাতে তিনি কার্যকরী, ব্যাটিংয়েও দলকে সাহায্য করছেন। ফিল্ডিংয়েও তাঁর দক্ষতা নজর কাড়ছে। সব মিলিয়ে দলের জন্য নানা ভাবে অবদান রাখছেন এই অলরাউন্ডার।
তবে ম্যাচ জিতলেও ভারতের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে শ্রেয়সের। ক্রাইস্টচার্চের মন্থর পিচে নিউ জ়িল্যান্ডের স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল ভারতীয় ব্যাটারদের যথেষ্ট চাপে রেখেছিলেন। বিশেষ করে স্যান্টনারের বোলিং ভারতকে সমস্যায় ফেলে। চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন তিনি।
শ্রেয়স জানিয়েছেন, ইনিংসের শুরুতে অতিরিক্ত ডট বল খেলার কারণে রান তোলার গতি কমে গিয়েছিল। ফলে পরের দিকে রান রেট বেড়ে যায় এবং ভারতকে আক্রমণাত্মক হতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু সেই সময় নিউ জ়িল্যান্ডের স্পিনাররা দুর্দান্ত বোলিং করেন। ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে এক-দু’ রান করে নিতে পারলে পরিস্থিতি আরও সহজ হতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।
তবে সব ম্যাচে সহজে জয় আসে না বলেই মনে করিয়ে দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, সেটাই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। চাপের মুখে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ও লড়াই করার মানসিকতা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও আরও উন্নতি চান শ্রেয়স। তাঁর মতে, নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটাররা বেশ কিছু খুচরো রান নিয়ে স্কোর বাড়িয়েছেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ফিল্ডারদের আরও সতর্ক হতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ সহজে দুই রান নিতে না পারে। দলের ক্রিকেটারদের এই বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরের ম্যাচে আরও উন্নত ক্রিকেট খেলার আশাবাদী ভারত অধিনায়ক।
