নিজস্ব সংবাদদাতা, আগরতলা— ত্রিপুরায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নত করতে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) সহযোগিতায় আগরতলায় গড়ে তোলা হবে ত্রিপুরা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (টিএফটিআই)। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণ প্রতিভাদের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও অডিয়োভিস্যুয়াল মাধ্যমে পেশাদার প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া এবং সৃজনশীল শিল্পে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ানো।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এসআরএফটিআই প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি, আগরতলায় টিএফটিআইয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা তৈরির জন্য একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদনও প্রস্তুত করবে এসআরএফটিআই। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষায় তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর এই প্রকল্প নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের যুগ্মসচিব কে কে নিরালা, ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের সচিব কিরণ গীতে এবং এসআরএফটিআইয়ের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা। বৈঠকে টিএফটিআইয়ের আধিকারিক এবং এসআরএফটিআইয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শিক্ষার মান এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
চলচ্চিত্র শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন ধারাকে গুরুত্ব দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন কে কে নিরালা। তাঁর মতে, অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকসের মতো ক্ষেত্র দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে এগোতে হবে। প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলির পাঠ্যক্রমের অনুকরণ না করে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজস্ব শিক্ষাপদ্ধতি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

ত্রিপুরা সরকারের তরফে কিরণ গীতে জানান, রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল শিল্পে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ত্রিপুরার স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গল্পকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এসআরএফটিআইয়ের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরাও এই সহযোগিতা নিয়ে আশাবাদী। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টিএফটিআইকে একটি উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে ত্রিপুরা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে চলচ্চিত্র ও ভিডিও সম্পাদনা এবং পর্দায় অভিনয়—এই দুই বিষয়ে এক বছরের স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেট কোর্স চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণমূলক স্বল্পমেয়াদি কোর্সও পরিচালনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই চারটি ব্যাচ এই ধরনের সার্টিফিকেট কোর্স সম্পূর্ণ করেছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্র ও অডিয়োভিস্যুয়াল শিল্পের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত এবং সৃজনশীল দিক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
ত্রিপুরা সরকার ও এসআরএফটিআইয়ের এই যৌথ উদ্যোগ উত্তর-পূর্ব ভারতে পেশাদার চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় প্রতিভাদের রাজ্যের বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ, অভিনয়, সম্পাদনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী তৈরির পথও আরও প্রশস্ত হবে।
