বাংলার গর্বকে সম্মান
কলকাতা, ৬ জুলাই: ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার নিউ টাউনের ইকো পার্কে তাঁর ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি ভূমিপুজোয় অংশ নেন অমিত শাহ। ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা অনুষ্ঠানস্থল। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবেই এই মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূর্তিটি সম্পূর্ণ হলে সেটিই হবে দেশে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সর্বোচ্চ মূর্তি। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে তাঁর ৬৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক। দেশের ঐক্য, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং জনজীবনে তাঁর অবদান স্মরণীয় করে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, এই মূর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও অবদানকে তুলে ধরবে। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্য এবং কেন্দ্রের তৎকালীন সরকারগুলি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। এই মূর্তি সেই ঐতিহাসিক অবদানকে সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতীয় জন সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্যদের অন্যতম ছিলেন। ১৯৫০ সালে পাকিস্তান নীতি নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন। এরপর ১৯৫১ সালে ভারতীয় জন সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে বিশেষ সাংবিধানিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়।
বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে দলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে আসছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণের প্রশ্নে তাঁর অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে দল। ২০১৯ সালে ৩৭০ এবং ৩৫(এ) ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও বিজেপি তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে।
অমিত শাহের সফরকে ঘিরে ইকো পার্ক ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে।
