সংবাদ কলকাতা: রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভেঙে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। শহরের রাস্তা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে, ব্যস্ত মোড় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—যানবাহনের গতিবিধির উপর নজর রাখতে আরও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে। এ বার ট্রাফিক ব্যবস্থায় যুক্ত হতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ক্যামেরা। হেলমেট বা সিট বেল্ট না পরা, নির্দিষ্ট গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, লালবাতি অমান্য করা কিংবা বেআইনিভাবে গাড়ি পার্ক করার মতো ঘটনায় ক্যামেরায় ধরা পড়বে গাড়ির নম্বর। নিয়ম অনুযায়ী সেই তথ্যের ভিত্তিতেই জারি হতে পারে ই-চালান।
এতদিন ট্রাফিক আইন ভাঙা ঠেকাতে রাস্তায় সরাসরি দায়িত্বে থাকতেন ট্রাফিক পুলিশকর্মীরা। তাঁদের নজর এড়িয়ে অনেক সময় নিয়ম ভেঙে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যেতেন চালকরা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশ গাড়ি থামালে চালকের সঙ্গে তর্কও জুড়ে যেত। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মভঙ্গকারী গাড়িকে চিহ্নিত করার ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থার সঙ্গে এ বার যুক্ত হচ্ছে আরও উন্নত প্রযুক্তি।
এআই ক্যামেরা শুধুমাত্র গাড়ির উপস্থিতি শনাক্ত করবে না, ট্রাফিক নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখবে। ফলে মোটরবাইক চালানোর সময় হেলমেট না পরা কিংবা গাড়িতে সিট বেল্ট না বাঁধার মতো ঘটনাও নজর এড়াবে না। একইভাবে নির্দিষ্ট গতির সীমা অতিক্রম করা, লালবাতি অমান্য করা বা যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করানোর ঘটনাও ক্যামেরার মাধ্যমে ধরা পড়তে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার ফলে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে চালকদের উপর চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতি না থাকলেও ক্যামেরার নজরদারি চলবে। ফলে ‘পুলিশ দেখছে না’ ভেবে নিয়ম ভাঙার সুযোগও অনেকটাই কমে যাবে।
তবে শুধু ট্রাফিক আইন ভাঙা রুখতেই নয়, প্রতারণা ঠেকাতেও এআই ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পুজোর মরসুমে অনেকেই আগে থেকে হোটেল, রিসর্ট বা ভ্রমণের প্যাকেজ বুক করেন। অনলাইনে বিভিন্ন হোটেল ও রিসর্টের ছবি দেখে পছন্দ করার পর সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে টাকা পাঠিয়ে দেন অনেকে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা ভুয়ো হোটেলের ছবি, ফোন নম্বর এবং লিঙ্ক ব্যবহার করে প্রতারণা করছে বলে পুলিশের সতর্কবার্তা।
পুলিশের পরামর্শ, ইন্টারনেটে কোনও হোটেল বা রিসর্টের ছবি দেখে সেখানে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেই সরাসরি টাকা পাঠানো উচিত নয়। বরং সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর, লিঙ্ক এবং হোটেলের ছবি এআইয়ের সাহায্যে যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে। হোটেলটি আদৌ রয়েছে কি না, ছবিগুলি আসল নাকি অন্য জায়গা থেকে নেওয়া—এসব বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

এর পরেও শুধু অনলাইন তথ্যের উপর নির্ভর না করে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্ভব হলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় গিয়ে হোটেল বা রিসর্ট দেখে তারপর বুকিং করার পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ।
অর্থাৎ, একদিকে রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙা ঠেকাতে এআই ক্যামেরার নজরদারি, অন্যদিকে অনলাইন প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এআই ব্যবহারের পরামর্শ—দুই ক্ষেত্রেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নাগরিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পথে এগোচ্ছে পুলিশ।
