কলকাতা — পশ্চিমবঙ্গের নগরোন্নয়ন ও পুর দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, রাজ্যের নাগরিক পরিকাঠামো এবং পুর পরিষেবা উন্নয়নে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। জল সরবরাহ, নিকাশি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাভূমি রক্ষা এবং স্যানিটেশন— এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে অগ্নিমিত্রা বলেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জলাভূমি ব্যাপক ভাবে ভরাট হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব কলকাতা জলাভূমির মতো সংরক্ষিত রামসার এলাকার উপরও বেআইনি নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘কী ভাবে এত বছর ধরে জলাভূমি ভরাট হতে দেওয়া হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। এই বিষয়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। কোথায় কোথায় বেআইনি দখল এবং নির্মাণ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তিনি জানান, রাজ্যে বর্জ্য এবং নিকাশি ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্মাণক্ষেত্রের বর্জ্য থেকে পেভার ব্লক তৈরি এবং প্লাস্টিক বর্জ্য রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘শুধু বর্জ্য ফেলা নয়, তা পুনর্ব্যবহার করাও জরুরি। বর্জ্য থেকে উৎপন্ন বায়োগ্যাস ভবিষ্যতে রাজ্যের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।’
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এখনও পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, অনেক জায়গায় মানুষ অবৈধ পাম্প বা বিকল্প জলের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। সরকারের লক্ষ্য, প্রত্যেক বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়া।
নারী স্যানিটেশন এবং স্কুলের শৌচাগার উন্নয়নকেও অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে দপ্তর। পাশাপাশি কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরগুলিকে জাতীয় পরিচ্ছন্নতা তালিকায় আরও ভাল জায়গায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই ভাঙচুর এবং উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘যে কোনও বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রেই নোটিস দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, নাগরিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি জিও-ট্যাগিং ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে সাধারণ মানুষ আবর্জনা বা জল জমার ছবি আপলোড করতে পারবেন। অভিযোগের নিষ্পত্তির পর পুর কর্তৃপক্ষকেও তার ছবি আপলোড করতে হবে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প নিয়েও মুখ খোলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধাভোগীরাই নতুন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে যাঁদের নাম যাচাইয়ের পর বাদ পড়েছে, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না।
