রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, আদানি গোষ্ঠী নিউ টাউনে ২০০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণের জন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার ভবানীপুরে আলিপুর নাগরিক সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। সেখানে গত দু’মাসে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, নিউ টাউনে নির্মীয়মাণ এই হাসপাতালের ২০০০ শয্যার মধ্যে ১০০০টি সম্পূর্ণ দরিদ্র মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ১০০০টি শয্যা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। যদিও সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। এবার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তাদের এই নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নতুন সরকার শিল্প ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বড় শিল্প বিনিয়োগের অভাবে রাজ্যের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, রাজ্যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনা সবই রয়েছে। নির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এলে রাজ্য সরকার জমি-সহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি|
নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ২০০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পর্যটন, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ নতুন সম্ভাবনার মুখ দেখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
