তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। মূল তোলাবাজির মামলার পাশাপাশি দেবরাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্যান্য অভিযোগের তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। একজন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে আট সদস্যের এই দল ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত মোট ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে আটটি অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে SIT। অভিযোগকারীদের বয়ান, বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত শনিবার সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিধাননগর পুরনিগমের ছয়জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তবে নোটিস পাঠানো হলেও প্রথম দফায় ছয় প্রাক্তন কাউন্সিলর হাজিরা দেননি। তাঁরা কেন অনুপস্থিত ছিলেন, সেই কারণ এবং আইনি দিক খতিয়ে দেখছে SIT।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এফআইআর, অভিযোগকারীদের বয়ান কিংবা তদন্তে যাঁদের নাম বা যোগসূত্র উঠে আসছে, তাঁদের প্রত্যেককেই পর্যায়ক্রমে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজন হলে তলবের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। তোলাবাজি, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগগুলিকেও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে মূল তোলাবাজির মামলায় সমরেশ চক্রবর্তী, মাইকেল নস্কর এবং সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে তাঁরা আদালত থেকে জামিন পান। তবে SIT তদন্তের পরিধি বাড়ায় তাঁদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিপুল সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েক বছরে দেবরাজ এবং তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির নামে রাজারহাট, নিউটাউন-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা এবং ভিনরাজ্যে একাধিক মূল্যবান সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এই সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-ও সক্রিয় হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তি রয়েছে। তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে রয়েছে ‘ডিসি গ্লোবাল’ নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, এই সংস্থার আড়ালে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেবরাজ-কাণ্ডে আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির উৎস এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগসূত্র—সব দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত শেষ করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল।
