নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ— তৎকাল টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম, রেলের জমি ও বাগান লিজ দেওয়ায় দুর্নীতি এবং স্টেশন চত্বরে তোলাবাজির অভিযোগ। একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার মুর্শিদাবাদ জংশনে স্টেশন মাস্টার মুকুল আনন্দের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। প্রয়োজনীয় নথি দেখতে চেয়েও তা না পাওয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগও তুলেছেন মন্ত্রী। ঘটনায় স্টেশন চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ স্টেশনে তৎকাল টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে দালালচক্র সক্রিয়। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে টিকিট বিক্রির কারবার চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি রেলের বাগান ও জমি নির্ধারিত নিয়ম না মেনে লিজ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত টেন্ডারের ক্ষেত্রেও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দর দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই সমস্ত অভিযোগ সামনে আসার পর স্টেশন মাস্টার মুকুল আনন্দের কাছে সংশ্লিষ্ট নথি দেখতে চেয়েছিলেন মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। অভিযোগ, প্রথমে পরে নথি দেখানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তা মন্ত্রীর হাতে পৌঁছয়নি। সেই কারণেই রবিবার নিজে স্টেশনে গিয়ে নথি দেখতে চান তিনি।

কিন্তু মন্ত্রীর দাবি, এ দিনও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি স্টেশন মাস্টার। এর পরেই দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। মন্ত্রীর অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্টেশন চত্বরে বেআইনি ভাবে টাকা আদায়ের কারবার চলছে। তৎকাল টিকিটের অনিয়ম থেকে রেলের জমি লিজ দেওয়া— একাধিক ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শুধু টিকিট বিক্রি বা জমি লিজ দেওয়াই নয়, স্টেশনের পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গৌরীশংকর। তাঁর অভিযোগ, স্টেশনে থাকা লিফট ও চলন্ত সিঁড়ি দীর্ঘদিন ঠিকমতো কাজ করছে না। যাঁদের এগুলি দেখভালের দায়িত্ব, তাঁরাও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী। এমনকি টিকিট কাউন্টারে বসে মদ্যপানের অভিযোগও সামনে এনেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষের অভিযোগগুলি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে স্টেশন মাস্টার মুকুল আনন্দের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও বিস্তারিত বক্তব্যও সামনে আসেনি। ফলে মন্ত্রীর তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে রেল প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।
