November 1, 2026
রাজ্য

মতুয়া সমাজকে বিভক্ত করেছেন মমতা, ঠাকুরনগর থেকে সরব শুভেন্দু

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বাগদার বিজেপি বিধায়ক সোমা ঠাকুরের আমন্ত্রণে সেখানে পৌঁছে পুজো ও আরতি করেন তিনি। নাটমন্দিরে পঞ্চপ্রদীপ দিয়ে আরতির পর সাষ্টাঙ্গে প্রণামও করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে মতুয়া সমাজের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। বরং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র বিরোধিতা করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছেন মমতা।

ঠাকুরবাড়িতে ধর্মীয় আচার পালনের পর মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভূমিকার কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মতুয়া সমাজের অবদান রয়েছে। সেই সমর্থনের জন্য গোটা সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মতুয়া সমাজের উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করেছিল। মতুয়া পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরির জন্যও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেন তিনি। বিশেষ করে সিএএ নিয়ে মমতার অবস্থানের সমালোচনা করেন শুভেন্দু।

শুভেন্দু বলেন, মতুয়া সমাজের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি। এই সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং সরকারি পরিষেবার সুযোগ তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর সরকারের লক্ষ্য বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ঠাকুরনগরের এই সম্মেলন থেকেই মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির নির্মাণ, বারুণী মেলার পরিসর বাড়ানো এবং ঠাকুরনগরে পৃথক পুরসভা গঠনের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। ফলে ধর্মীয় কর্মসূচির পাশাপাশি মতুয়া অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিকত্বের বিষয়কে সামনে রেখেই এ দিনের কর্মসূচি সাজানো হয়েছিল।

Related posts

Leave a Comment