সংবাদ কলকাতা: দীর্ঘদিনের বিতর্ক, মতবিরোধ ও বয়কটের অভিযোগের আবহ কাটিয়ে নতুন করে সংগঠন সাজানোর পথে টলিউড। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় গিল্ড নির্বাচন শুরু হল। শনিবার, ৩১ অক্টোবর টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় ২৩টি গিল্ডের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দু’দিন ধরে চলবে এই প্রক্রিয়া। বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতেই এই নির্বাচন। গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার তদারকিতে রয়েছেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী।
গত কয়েক বছরে টলিউডের অন্দরে একাধিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কখনও প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ, কখনও পরিচালক ও কলাকুশলীদের মধ্যে মতবিরোধ, আবার কখনও কাজ বন্ধ রাখা বা কাউকে বয়কট করার ঘটনা ঘিরে সরগরম হয়েছে স্টুডিওপাড়া। বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে গিল্ডগুলিতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়।
প্রায় দু’মাস আগে মিঠুন চক্রবর্তী সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনগুলির নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবেই শনিবার থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্য টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকেই ভোটগ্রহণের পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন মিঠুন। স্টুডিও চত্বরে বসে গোটা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। তাঁর আশা, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর টলিউডের কাজের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন বলেন, এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে একনায়কতন্ত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই কাজ করতে চাইছিলেন না। নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতির বদল ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী।

শুধু সংগঠনের নির্বাচন নয়, নতুন করে বাংলা ছবির নির্মাণ বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন মিঠুন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার ছবি তৈরির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ভরতুকি দিচ্ছে। তাই পরিচালকদের আরও বেশি করে ছবি তৈরিতে এগিয়ে আসা উচিত। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র শিল্পের কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক হলে নতুন প্রযোজনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
এই নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর বক্তব্য, আগে এসএমএসের মাধ্যমে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। এ বার শ্রম কমিশনের নিয়ম মেনে নির্বাচন হচ্ছে। ফলে ভোটগ্রহণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে।
দু’দিনের ভোটপর্ব শেষে ২৩টি গিল্ডের দায়িত্ব কারা পাবেন, তা নিয়েই এখন টলিপাড়ায় আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও মতবিরোধের পর নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে শিল্পের কাজের পরিবেশ কতটা বদলায়, সেটাই এখন দেখার।
