October 31, 2026
রাজ্য

পুরনো মামলা খোলার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, নিশানায় তৃণমূল-সিপিএম

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর— লোকসভা ভোটের সময় বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুর উপর হামলার অভিযোগ থেকে নন্দীগ্রামের ২০০৭ সালের রক্তাক্ত অধ্যায়, সব ঘটনারই পুরনো ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ সভা থেকে একযোগে তৃণমূল ও সিপিএমকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর ঘোষণা, ছোট আঙারিয়া থেকে নন্দীগ্রাম— অতীতের একাধিক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার তদন্ত ফের শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রণত টুডুর উপর হামলার মামলায় কত জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই হিসাবও চেয়েছেন তিনি।

গড়বেতার সভায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডু ভোটের দিন তৃণমূল কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও জখম হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। ঘটনার পর গড়বেতা হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন প্রণত।

শনিবার সভায় উপস্থিত প্রণতের কাছে ওই ঘটনার এফআইআরের কপি চান শুভেন্দু। একই সঙ্গে জানতে চান, ওই মামলায় কত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে অথচ এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেশপুরেও একই ধরনের অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সেখানকার ঘটনাগুলিরও হিসাব নেওয়ার কথা জানান তিনি।



এর পর নিজের উপর অতীতে হামলার অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনায় তাঁর কনভয়ে হামলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেই ঘটনায় তাঁকে দীর্ঘ সময় থানায় বসে থাকতে হয়েছিল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ওই দিনের ঘটনাও তিনি ভুলে যাননি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণের পর সিপিএমকেও নিশানা করেন শুভেন্দু। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের ঘটনার তদন্ত ফের শুরু করার কথা ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গড়বেতায় সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নন্দীগ্রামে যাওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরনো মামলাগুলি ফের খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামে ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ ঘিরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়েছিল। জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত এলাকায় তৎকালীন শাসক সিপিএমের অভিযানের সময় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকে প্রতি বছর ১০ নভেম্বর তৃণমূলের তরফে শহিদ স্মরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর শুভেন্দুও আলাদা ভাবে ওই দিন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এ বার গড়বেতার সভা থেকে সেই ঘটনার তদন্ত ফের শুরু করার কথা বললেন তিনি।

শুধু নন্দীগ্রাম নয়, ২০০১ সালের ছোট আঙারিয়া হত্যাকাণ্ডের মামলার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তৎকালীন গড়বেতার প্রভাবশালী বাম নেতা তপন ঘোষ এবং সুকুর আলির প্রসঙ্গ তুলে তাঁদের বর্তমান অবস্থান জানতে চান তিনি। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার উদ্দেশে তাঁদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ছোট আঙারিয়া থেকে নন্দীগ্রাম— অতীতের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না।



রাজনৈতিক আক্রমণে তৃণমূল ও সিপিএমকে একই সারিতে বসিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এখন যাহা তৃণমূল, তাহাই সিপিএম। দুইয়ে মিলে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে।’ তাঁর অভিযোগ, দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ফারাক থাকলেও রাজ্যে অশান্তি তৈরির ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা একই রকম।

এ দিনের সভা থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাজ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নজরে রাখার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি গরু পাচার ও বালি পাচার বন্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর রাখার কথা বলেন তিনি।

সভা থেকে গড়বেতা নিয়ে আরও একটি ঘোষণা করেন শুভেন্দু। আগামী বাজেটে গড়বেতাকে মহকুমার স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ফলে পুরনো রাজনৈতিক মামলার তদন্ত, বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত— তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই এ দিনের সভায় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related posts

Leave a Comment