নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— চোরবাগান কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে কালীপুজোর আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তৎপর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। দুর্গাপুজো শেষ হতেই নৈহাটির বড়মার মন্দিরে দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। শনিবার মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং। নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের যাতায়াত এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
প্রতি বছর কালীপুজোকে কেন্দ্র করে নৈহাটির বড়মার মন্দিরে অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে আসেন। ফলে বিপুল জনসমাগম সামলানো পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণহানি ও বহু মানুষের আহত হওয়ার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন।
শনিবার পরিদর্শনের সময় বড়মার মন্দির ফাঁড়ি ও নৈহাটি থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে গঙ্গার ঘাট থেকে অরবিন্দ রোডের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন পুলিশ কমিশনার। দর্শনার্থীদের চলাচলের পথ, মন্দিরে প্রবেশ ও বেরোনোর সম্ভাব্য রুট এবং আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। কোথায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে, কী ভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং গোটা পরিস্থিতির উপর কী ভাবে নজরদারি চালানো হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।

পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং জানিয়েছেন, কালীপুজোর সময় নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই আগাম পরিদর্শন। মন্দির চত্বরের পরিস্থিতি এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কালীপুজোর দিনগুলিতে বড়মার মন্দিরে ভক্তদের ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন। তাই উৎসবের আগে থেকেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে পুজো দেওয়া এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
