সংবাদ কলকাতা: পুজো মিটতেই সল্টলেকের সিটি সেন্টার সংলগ্ন একটি নামী রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে চমকে উঠলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে এল দুর্গন্ধ। ভিতরে রাখা পাঁঠা ও মুরগির মাংসে ধরেছে ছত্রাক। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হয়েছে মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির, মাওয়া-সহ একাধিক অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী। রান্নাঘর ও সংরক্ষণের জায়গায় অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রেস্তরাঁটির লাইসেন্স নিলম্বিত করে সেটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রেস্তরাঁটির বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর আগে খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা যৌথ ভাবে সেখানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সেই সময় অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, জরিমানার পরেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ফের অভিযানে গিয়ে একই ধরনের অনিয়মের ছবি সামনে আসায় এ বার আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক প্রসেনজিৎ ঘটক জানিয়েছেন, রেস্তরাঁর ফ্রিজ ও ফ্রিজারে অপরিচ্ছন্নতা ছিল। মাংস খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির ও মাওয়া-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। রান্নাঘর ও সংরক্ষণের জায়গায় প্রচুর ধুলো জমে থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কারের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ।
প্রসেনজিৎ ঘটকের বক্তব্য, আগেও অনিয়মের জন্য জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জনস্বার্থে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। আপাতত রেস্তরাঁটির লাইসেন্স নিলম্বিত করে সেটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে প্রথমে সমস্ত অনিয়ম সংশোধন করে তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তার পর ফের পরিদর্শন করে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর জরিমানাও করা হতে পারে।
উৎসবের মরসুমে রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বহু মানুষ বিভিন্ন খাবারের স্বাদ নিতে বাইরে যান। সেই সময় খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সল্টলেকের এই রেস্তরাঁয় ছত্রাক ধরা মাংস এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী মজুত থাকার অভিযোগ সামনে আসায় ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর আগে থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রেস্তরাঁ ও ধাবায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর এবং পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। পার্ক স্ট্রিট, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, ইএম বাইপাস ও ভিআইপি রোড সংলগ্ন একাধিক রেস্তরাঁয় হানা দেন আধিকারিকেরা। বাসি বা পচা মাংসের ব্যবহার, রান্নায় পোড়া তেল পুনর্ব্যবহার এবং খাবারে ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা কৃত্রিম রং মেশানোর মতো অনিয়ম রোখাই ছিল সেই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
সেই সময় নিয়মভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকটি রেস্তরাঁ থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিছু হোটেল ও রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করা হয়। তার পরেও সল্টলেকের এই রেস্তরাঁয় এমন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় খাদ্য সুরক্ষা বিধি কার্যকর করার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।
এখন রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, চিহ্নিত অনিয়মগুলি সংশোধন করে খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধি মেনে চলার প্রমাণ দেওয়া। পুনরায় পরিদর্শনে সন্তোষজনক পরিস্থিতি পাওয়া যাবে কি না, তার উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—খাবারের গুণমান, সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতার নিয়ম না মানলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
