29 C
Kolkata
October 24, 2026
রাজ্য

কাকদ্বীপ হবে নতুন জেলা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সংবাদ কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপকে নতুন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুন্দরবনের সমস্ত দ্বীপকে যুক্ত করে একটি বিশেষ উন্নয়ন মডেল তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামে সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত জনপরিষেবা কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সিএএ শংসাপত্র দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে জেলা প্রশাসনকে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে কাকদ্বীপ মহকুমার অধীনে রয়েছে কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর—এই চারটি ব্লক। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগলেও কাকদ্বীপকে আলাদা জেলা করার সিদ্ধান্তে সরকার এগোবে। তাঁর বক্তব্য, দু’বছর পরেও যদি হয়, কাকদ্বীপকে জেলা করা হবে। সুন্দরবনের দ্বীপগুলিকে একসূত্রে বেঁধে উন্নয়নের একটি নতুন মডেল তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

সুন্দরবন ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও মাত্র ২০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছিল। সেই অর্থেরও বড় অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর সরকার আট মাসের বাজেটে সুন্দরবন ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উন্নয়নের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ করেছে। প্রথম পর্যায়ে ৫৫৩টি কাজের টেন্ডার হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২৬৫০টি কাজ করা হবে। বর্ষা শেষ হওয়ায় এবার প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সুন্দরবনের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীবাঁধ ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই সমস্যা মোকাবিলায় বাঁধ মেরামতির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, মুড়িগঙ্গা সেতুর কাজ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুটির উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেতুটি চালু হলে সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিনের কর্মসূচিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে যাঁরা জীবন ও ধর্ম রক্ষার জন্য ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা উচিত নয়, তাঁরা শরণার্থী। এই শরণার্থীদের দ্রুত সিএএ শংসাপত্র দেওয়ার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং কাকদ্বীপের মহকুমাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।



মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিসেম্বরের ১০ তারিখের পর তিনি সাগরে যাবেন। এরপর ১০ জানুয়ারি সাগরমেলার প্রস্তুতি পরিদর্শনেও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তার আগেই যোগ্য শরণার্থীরা যাতে সিএএ শংসাপত্র পান, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবও খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সিএএ শংসাপত্র পাওয়ার পর জানুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে।

এদিন দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গেও পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসার ঘটনায় নতুন করে এফআইআর করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, ওই সময় যাঁরা অত্যাচার করেছেন এবং আমফান ও মনরেগা প্রকল্পের টাকা লুটের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের কাউকে ছাড়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

Related posts

Leave a Comment