সংবাদ কলকাতা:— ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন এক দিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে নিউজিল্যান্ডের আগ্রাসী ব্যাটার ফিন অ্যালেনকে নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইনিংসের শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত অ্যালেনকে এ বার মাঝের ওভারগুলিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব দিতে চাইছে কিউই শিবির। ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের আগে দলের ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করে নেওয়াই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
নিউজিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার মনে করছেন, এক দিনের ক্রিকেটে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে অ্যালেনের। তাই তাঁকে শুধু ওপেনার হিসেবে ব্যবহার না করে মিডল অর্ডারেও পরীক্ষা করে দেখতে চায় দল। বিশেষ করে ইনিংসের ২৫ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে প্রতিপক্ষের স্পিনার এবং পঞ্চম বা ষষ্ঠ বোলারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন এই কিউই তারকা।
মাঝের ওভারেই ঝড় তোলার পরিকল্পনা
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাধারণত ওপেনার হিসেবেই ব্যাট করতে নামেন ফিন অ্যালেন। শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলা তাঁর ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তাঁর সেই আগ্রাসনকে ইনিংসের মাঝের দিকে কাজে লাগাতে চাইছে নিউজিল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট।
এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে কোচ রব ওয়াল্টার জানিয়েছেন, মিডল অর্ডারে অ্যালেনের জন্য আলাদা ভূমিকার কথা ভাবা হচ্ছে। তাঁর মতে, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রয়েছে এই ব্যাটারের। সেই কারণেই নতুন দায়িত্বে তাঁকে পরীক্ষা করে দেখতে চায় নিউজিল্যান্ড।
ওয়াল্টারের ব্যাখ্যা, এক দিনের ক্রিকেটে ইনিংসের মাঝের দিকে প্রতিপক্ষের স্পিনারদের পাশাপাশি পঞ্চম ও ষষ্ঠ বোলারকে আক্রমণ করার সুযোগ থাকে। অ্যালেনের মতো আগ্রাসী ব্যাটারকে সেই পর্যায়ে নামালে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
কিউই কোচের মতে, এক দিনের ক্রিকেটের ধরন ক্রমশ বদলাচ্ছে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে ব্যাটিংয়ের উপযোগী উইকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ওই সময়ে ফিল্ডিংয়ের নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় শট খেলার সম্ভাবনাও থাকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এক দিনের ক্রিকেটে বেশি রান ওঠার প্রবণতা দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ওয়াল্টার। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ও অ্যালেনকে ব্যাটিং অর্ডারের নীচের দিকে খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নতুন দায়িত্ব নিতে অ্যালেনও প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ।
পেসারদের ফিটনেস নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
ব্যাটিংয়ের নতুন পরিকল্পনার পাশাপাশি পেসারদের চোটমুক্ত রাখাও নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি। তার পর রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ। তাই চোট সারিয়ে ফেরা বোলারদের দ্রুত মাঠে ফেরানোর বদলে ধাপে ধাপে তাঁদের প্রস্তুত করতে চাইছে কিউই টিম ম্যানেজমেন্ট।
ইংল্যান্ড সফরে পিঠের নীচের দিকে চোট পেয়েছিলেন উইল ও’রুর্ক। কাফের সমস্যার কারণে তাঁর বোলিংয়ে ফেরার প্রক্রিয়াও কিছুটা পিছিয়েছে। তবে ও’রুর্কের সুস্থ হয়ে ওঠার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট ওয়াল্টার। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার আগে বোলিংয়ের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ানো প্রয়োজন। আগের পিঠের চোটের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে দলকে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আগে ও’রুর্ককে সম্পূর্ণ ফিট করে তোলাই এখন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম লক্ষ্য। অন্য দিকে, গোড়ালিতে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন বেন সিয়ার্স। আগামী এক থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে তাঁর দৌড় শুরু করার কথা। তবে বোলিংয়ে ফেরার আগে ধীরে ধীরে অনুশীলনের চাপ বাড়াতে হবে তাঁকে।
শেষ দুই এক দিনের ম্যাচে ফিরছেন লকি ফার্গুসন
ভারতের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে খেলতে দেখা যেতে পারে লকি ফার্গুসনকে। সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচে তাঁকে না রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলে তাঁর গুরুত্ব কমে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ওয়াল্টার।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পর এক দিনের ফরম্যাটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ফার্গুসনকে সময় দিতে চাইছে নিউজিল্যান্ড। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যে ক্রিকেটারদের কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনার সঙ্গেও এই সিদ্ধান্তের যোগ রয়েছে।
ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও খেলবেন নিউজিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ব্যস্ততা ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার পথে বাধা হবে না বলে জানিয়েছেন কিউই কোচ।
নিউজিল্যান্ডের তরুণদের জন্যও বড় সুযোগ
ভারত এ দলের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড এ দলের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন ওয়াল্টার। তাঁর মতে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে নিউজিল্যান্ড এ দলের ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এই ধরনের ম্যাচ নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের বড় মঞ্চ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করে তোলার ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা কাজে আসবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্যাটিংয়ের বিকল্প তৈরি করা, তরুণদের সুযোগ দেওয়া এবং পেসারদের ফিটনেস বজায় রাখা—এই তিনটি বিষয়েই জোর দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন এক দিনের সিরিজে ফিন অ্যালেনের নতুন ভূমিকা সেই প্রস্তুতিরই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে।
