মুম্বাই— ফোনে বিশেষ আগ্রহ নেই, সহজে বার্তার উত্তরও দেন না। অথচ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই মহেন্দ্র সিংহ ধোনিই শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন স্মৃতি মন্ধানাকে। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানে সেই অজানা কাহিনি সামনে আনলেন ভারতের তারকা ব্যাটার। শুধু তাই নয়, কেন স্মৃতিকেই বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।
বিশ্বকাপ জয়ের পর ধোনির কাছ থেকে বার্তা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়েছিলেন স্মৃতি। তাঁর কথায়, ধোনি খুব বেশি ফোন ব্যবহার করেন না বলেই এমন একটি বার্তা তাঁর কাছে বিশেষ ছিল। দলের জয় উপলক্ষে ধোনির শুভেচ্ছা পেয়ে তিনি খুশি হয়েছিলেন। একই সঙ্গে সতীর্থদের কাছেও সেই শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ধোনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হর্ষ ভোগলে মজা করে স্মৃতিকে প্রশ্ন করেন, ধোনির ফোন নম্বর কি আগে থেকেই তাঁর ফোনে সেভ করা ছিল? স্মৃতি জানান, ধোনির নম্বর তাঁর কাছে আগে থেকেই ছিল। সেই সূত্রেই বিশ্বকাপ জয়ের পর ধোনির বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল।
কেন অন্য কাউকে নয়, স্মৃতিকেই বার্তা পাঠালেন ধোনি? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক জানান, মহিলা দলের অন্য কোনও ক্রিকেটারের নম্বর তাঁর কাছে ছিল না। তাই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্মৃতিকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে দু’জনে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংও করেছিলেন। সেই পরিচিতির সূত্র ধরেই স্মৃতিকে বার্তা পাঠানোর কথা ভেবেছিলেন ধোনি। তাঁর অনুরোধ ছিল, দলের প্রত্যেক সদস্যের কাছে যেন তাঁর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়া হয়।

ভারতীয় মহিলা দলের বিশ্বকাপ জয়কে শুধুমাত্র একটি ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না ধোনি। তাঁর মতে, এই সাফল্য দেশের মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের পথ আরও মসৃণ করবে। আগামী প্রজন্মের মেয়েদের কাছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগাবে বিশ্বজয়ী দলের সাফল্য।
ধোনির বক্তব্য, এই জয় ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের সামনে নতুন দিশা খুলে দিয়েছে। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ভারতীয় মহিলা দলের ক্রিকেটাররা আগামী দিনের মেয়েদের জন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন, ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নিয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছনো সম্ভব। সেই কারণেই এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৫ সালের ২ নভেম্বর নবি মুম্বইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবার মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর ধোনির ব্যক্তিগত শুভেচ্ছাবার্তা দলের কৃতিত্বের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধারই পরিচয় দিল। আর স্মৃতির মুখে সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
