27 C
Kolkata
October 4, 2026
রাজ্য

এনআইটি দুর্গাপুরে সহকারী রেজিস্ট্রার নিয়োগে একাধিক প্রশ্ন

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরীক্ষার্থীর

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: জাতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দুর্গাপুরে (এনআইটি দুর্গাপুর) সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দেশের বিভিন্ন এনআইটি এবং আইআইটির অধিকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেন এক পরীক্ষার্থী। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষা এবং তার আগে-পরে প্রকাশিত যোগ্যতা তালিকায় এমন কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তথ্য-অনুসন্ধানমূলক তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে ওই পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, সহকারী রেজিস্ট্রার পদটি দশম বেতনস্তরের। ১২ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনই সাক্ষাৎকারের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় NITDGP/06-A/00760 রোল নম্বরটি ছিল। কিন্তু ওই একই রোল নম্বর ২৫ আগস্ট প্রকাশিত অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকাতেও ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

পরীক্ষার্থীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তাঁকে জানানো হয়, ওই প্রার্থীকে এর আগে ৬ জুলাই প্রকাশিত একটি অস্থায়ী তালিকায় যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর বক্তব্য, যদি ৬ জুলাইয়ের তালিকাতেই ওই প্রার্থী যোগ্য হয়ে থাকেন, তা হলে ২৫ আগস্টের অযোগ্য তালিকায় তাঁর রোল নম্বর কী ভাবে এল? পরে কোন নথি বা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাঁকে দ্বিতীয় পর্যায়ের উপস্থাপনা ও সাক্ষাৎকারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হল, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে দাবি তাঁর।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, যোগ্যতা তালিকায় কোনও সংশোধন বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তা যথাযথ ভাবে অনুমোদিত হয়েছিল কি না এবং সেই পরিবর্তন প্রার্থীদের জানানো হয়েছিল কি না, তাও প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। এই সমস্ত নথি পরীক্ষা না করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন বলেই দাবি করেছেন ওই পরীক্ষার্থী।

লিখিত পরীক্ষা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষা সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায় সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে শুরু হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে প্রকৃত পরীক্ষার শুরুর সময় এবং পরীক্ষা পরিচালনার পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।

পরীক্ষার্থীর আরও অভিযোগ, আলাদা করে প্রামাণিক প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের পাঠানো ই-মেলের প্রতিলিপিকেই প্রবেশপত্র হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়। কিন্তু সেই ই-মেলের প্রতিলিপিতে স্পষ্ট ভাবে রোল নম্বর, ছবি বা প্রার্থীর সম্পূর্ণ পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য না থাকায় সেটি কী ভাবে পরীক্ষার্থীর পরিচয় এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রামাণিক নথি হিসেবে ব্যবহৃত হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়। পরীক্ষার্থীদের ওএমআর উত্তরপত্র কিংবা প্রশ্নপত্রের প্রতিলিপি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোনও প্রামাণিক শংসাপত্র বা পরিদর্শকের স্বাক্ষর করা কোনও স্বীকৃতিপত্রও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর, কাট-অফ নম্বর এবং সাক্ষাৎকারের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ডও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

নিজের নামের ক্রমিক নম্বর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, ২৫ আগস্টের তালিকায় মোট ৭৮৮ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই তালিকায় তাঁর নাম ছিল ৫৩৪ নম্বরে। কিন্তু পরীক্ষার দিন উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষর করার সময় তাঁর ক্রমিক নম্বর ৫৫৯ হয়ে যায়। কেন এই পরিবর্তন হল এবং এর সঙ্গে পরীক্ষায় প্রকৃত উপস্থিত প্রার্থীর সংখ্যা বা সংশ্লিষ্ট নথির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, এই ধরনের বিষয়গুলি পরীক্ষার্থীদের পক্ষে নিজেদের যোগ্যতা, উপস্থিতি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, উত্তরপত্রের মূল্যায়ন, প্রাপ্ত নম্বর এবং সাক্ষাৎকারের জন্য বাছাইয়ের প্রক্রিয়া স্বাধীন ভাবে যাচাই করা কঠিন করে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে তিনি দেশের বিভিন্ন এনআইটি এবং আইআইটির অধিকর্তাদের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং এনআইটি দুর্গাপুরের পরিচালন পর্ষদের কাছেও তোলা হোক। চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকা প্রকাশের আগে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে যোগ্যতা তালিকার বিভিন্ন সংস্করণ, প্রার্থীদের আবেদন যাচাইয়ের নথি, উপস্থিতির খাতা, ওএমআর উত্তরপত্র, প্রশ্নপত্র, মূল্যায়ন ও নম্বর সংক্রান্ত নথি, কাট-অফ, প্রার্থী বাছাইয়ের মানদণ্ড, ই-মেল যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট কমিটির নথি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, প্রয়োজন হলে তথ্য জানার অধিকার আইন, কেন্দ্রীয় সরকারি অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা-সহ উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনগত পথেও বিষয়টি নিয়ে এগোনো যেতে পারে। তবে তিনি কোনও ব্যক্তি বা আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ করছেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, সরকারি ভাবে প্রকাশিত নথি এবং পরীক্ষার প্রয়োজনীয় রেকর্ডের ভিত্তিতে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ যাচাই হলেই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।

সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের এই প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর এখন সংশ্লিষ্ট নথি ও রেকর্ড যাচাই করা হবে কি না, সেটিই দেখার। অভিযোগকারীর আবেদন, তদন্তে যদি প্রক্রিয়ার কোনও গুরুতর ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তা হলে নিয়ম মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হোক এবং প্রয়োজনে নতুন করে স্বচ্ছ ও নথিবদ্ধ পরীক্ষা নেওয়া হোক।

Related posts

Leave a Comment