32 C
Kolkata
September 30, 2026
রাজ্য

 ২০২৯-এর মধ্যে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলন্ধর— ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় করল ভারতীয় জনতা পার্টি। বুধবার জলন্ধরে দলের ১৩ দিনের ‘নশামুক্ত পাঞ্জাব যাত্রা’র সমাপ্তি সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করা হবে।

১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বিজেপির এই যাত্রা পাঞ্জাবের ১১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপর দিয়ে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জলন্ধরে এসে শেষ হয়। সমাবেশে শাহ বলেন, পাঞ্জাবের তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করাই রাজ্যের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

মাদকাসক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মায়েদের উদ্দেশে শাহ বলেন, মাদক সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঞ্জাবে হেরোইন ও অন্যান্য কৃত্রিম মাদকের ক্ষেত্রে ‘চিট্টা’ শব্দটি প্রচলিত। সেই প্রসঙ্গেই শাহ দাবি করেন, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তরুণদের কাছে চিট্টা পৌঁছে দেওয়ার মতো কোনও সরবরাহকারীকে বাইরে রাখা হবে না।

সমাবেশে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টির সরকারকে মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেন শাহ। তাঁর দাবি, রাজ্যে মাদকের কারবার আরও বেড়েছে। তবে আম আদমি পার্টি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের নেতারা দাবি করে আসছেন, রাজ্য সরকার মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক পদক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, পাঞ্জাবে বাইরে থেকে মাদক ঢোকার বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দিল্লির আবগারি নীতি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন শাহ। তাঁর বক্তব্য ছিল, দিল্লিতে মদ বিক্রি সংক্রান্ত মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা হয়েছে, তাঁদের নেতৃত্বাধীন দল কীভাবে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। তবে এই মামলায় আম আদমি পার্টি এবং দলের নেতারা কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

মাদক সমস্যা ছাড়াও কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা, মেডিক্যাল কলেজ, খনি থেকে আয় এবং কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে পাঞ্জাব সরকারের সমালোচনা করেন শাহ। সরকারি প্রচারের জন্য বছরে ৭৮৫ কোটি টাকা খরচের যে দাবি তিনি করেন, সেটিও তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ। ওই অঙ্ক এবং তাঁর তোলা সব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাঞ্জাবের জাতীয় নিরাপত্তায় অবদানের কথাও সমাবেশে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে পাঞ্জাবের সেনাদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন তিনি।

সমাবেশের আগে জলন্ধরের শ্রী দেবী তালাব মন্দিরে যান শাহ। বিজেপির চারটি পৃথক পথ থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী কর্মসূচি জলন্ধরে এসে মিলিত হয়।

এদিকে সমাবেশের আগে একটি হুমকির ইমেলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৭ মিনিটে পাওয়া ওই ইমেলে সমাবেশের মঞ্চের নীচে বিস্ফোরক রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি কয়েকটি স্কুল, দেবী তালাব মন্দির এবং বাসকে ঘিরেও হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা তল্লাশি চালালেও কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। ইমেলটির উৎস এবং হুমকির সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে।

জলন্ধরের এই সমাবেশের মাধ্যমে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাঞ্জাবে মাদকবিরোধী অভিযানকে বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হল।

Related posts

Leave a Comment