নিজস্ব সংবাদদাতা, বনগাঁ: বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের (Biswajit Das) গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর এ বার তাঁর বাড়ির পিছনের বাগান থেকেও আরও একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধারের দাবি করল পুলিশ। এই ঘটনায় প্রাক্তন বিধায়কের গাড়িচালক কেরামত মণ্ডলকেও গ্রেপ্তার করেছে গোপালনগর থানার পুলিশ। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে বিশ্বজিৎ এবং তাঁর গাড়িচালক—দু’জনকেই বনগাঁ মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। তাঁদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গোপালনগর বাজার এলাকায় বিশ্বজিতের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর বিশ্বজিতের গাড়িচালক কেরামত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদেই বাড়ির বাগানে আরও একটি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়ে তথ্য মেলে।
পুলিশের অভিযোগ, বিশ্বজিতকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় কেরামত তাঁর গাড়ি নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে দ্রুত বাড়ির তালা খুলে ভিতরে ঢোকেন এবং কিছু ক্ষণ পর বেরিয়ে আসেন। তদন্তকারীদের নজরে বিষয়টি আসে। এর পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গাড়িতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে বাড়ির পিছনের বাগানে ফেলে দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, বিশ্বজিতের গাড়ির সামনের অংশে রাখা ছিল আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি। পুলিশ মনে করছে, গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পরই সেগুলি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে বাড়ির পিছনের বাগানে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
এর আগে সোমবার গোপালনগর বাজার এলাকায় বিশ্বজিতের গাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই ওই তল্লাশি চালানো হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। বেআইনি ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে সেখান থেকেই প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিশ্বজিৎ দাস বনগাঁ উত্তরের দু’বারের প্রাক্তন বিধায়ক। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি। ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে জেতার পর আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। চলতি বিধানসভা নির্বাচনেও বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হন, যদিও জয় পাননি।
বিশ্বজিতের গ্রেপ্তারের পর তাঁর সঙ্গে দলের সম্পর্ক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এখন পুলিশের মূল নজর, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, সেগুলি কার এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা।
বিশ্বজিৎ এবং তাঁর গাড়িচালককে আদালতে হাজির করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস, গাড়িতে অস্ত্র রাখার কারণ এবং বাগানে অস্ত্র সরিয়ে রাখার অভিযোগের বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপরই তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ নির্ভর করবে।
