সংবাদ কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের (Nandigram Bypoll) আগে আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছ’টি মামলাতেই অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের (Justice Tirthankar Ghosh) একক বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলের বাইরে থাকতে পারবেন তিনি। ফলে নির্বাচনী প্রচার ও ভোটের প্রস্তুতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ মিলল তাঁর।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২১ অক্টোবর তাঁকে ফের আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অর্থাৎ, এই জামিন চূড়ান্ত জামিন নয়। মূল মামলাগুলির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের নির্দেশের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
জামিন দেওয়ার পাশাপাশি মিলন প্রধানের উপর একাধিক শর্তও আরোপ করেছে আদালত। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে জমা রাখতে হবে। তদন্তের প্রয়োজন হলে পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁকে ফের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে হবে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার পুরনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত, মারধর এবং লুটপাটের মতো অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মিলন। তাঁর আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, তিনি আসন্ন উপনির্বাচনের প্রার্থী এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর দ্রুত আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন। শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তবে পরবর্তী শুনানিতে ছ’টি মামলার বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশ দেয়।
এর আগে কয়েক দফা শুনানি হলেও জামিনের বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ হয়নি। এক পর্যায়ে চারটি মামলায় শুনানি শেষ হলেও বাকি দু’টি মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলে ছিল। অবশেষে সব ক’টি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আপাতত জেল থেকে বাইরে এসে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন নন্দীগ্রামের এই প্রার্থী।
তবে আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট, এই জামিনের মেয়াদ সীমিত। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্বস্তি পাওয়ার পর ২১ অক্টোবর ফের আদালতে হাজির হতে হবে মিলনকে। ফলে নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে চলা পুরনো মামলাগুলির পরবর্তী শুনানির দিকেও নজর থাকবে।
