সংবাদ কলকাতা: গঙ্গাসাগর মেলার জাতীয় মেলার স্বীকৃতির দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Nabin)। সোমবার গঙ্গাসাগর সফরে গিয়ে তিনি বলেন, এই দাবি তাঁদের জানা রয়েছে এবং দ্রুত তা পূরণ হওয়ার আশা রয়েছে।
দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে পশ্চিমবঙ্গে আসা নীতীন নবীন (Nitin Nabin) সোমবার সকালে গঙ্গাসাগরে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল (Sunil Bansal)। সেখানে পুণ্যসাগরে স্নান করার পর তাঁরা কপিল মুনির আশ্রমে (Kapil Muni Temple) যান। সেখানে পুজো দেন নীতীন নবীন।
গঙ্গাসাগরের ধর্মীয় গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, এই স্থান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র। পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela) নিয়েও তিনি কথা বলেন।

গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নীতীন নবীন বলেন, ‘আমরা জানি যে জাতীয় মেলার দাবি উঠেছে। আশা করি, দ্রুত তা পূরণ করা হবে। এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।’
প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা আসেন। গঙ্গা ও সাগরের সঙ্গমস্থলে পুণ্যস্নান এবং কপিল মুনির আশ্রমে পুজোকে কেন্দ্র করে এই সময়ে বিপুল ভিড় হয়। মেলার পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পুণ্যার্থীদের পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি এর আগেও রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রের কাছে তোলা হয়েছে। ফলে নীতীন নবীনের এ দিনের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
নীতীন নবীনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি কলকাতায় এসেছেন। সফরে দলের রাজ্য নেতৃত্ব, সাংসদ, বিধায়ক এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক রয়েছে তাঁর।

গঙ্গাসাগর সফরের পর নীতীন নবীন জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে আস্থা নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন, সেই আস্থা বজায় রাখতে তাঁরা কাজ করবেন। আরও ভালোভাবে কাজ করার জন্য তিনি আশীর্বাদ চেয়ে পুজো দিয়েছেন বলে জানান। পশ্চিমবঙ্গবাসীর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলের জন্যও প্রার্থনা করেছেন তিনি।
গঙ্গাসাগর মেলার জাতীয় স্বীকৃতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে যে আলোচনা চলছে বলে নীতীন নবীন জানিয়েছেন, তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
