সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাসে (Satyajit Ray Film and Television Institute) অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির (Akhil Bharatiya Grahak Panchayat) অনুষ্ঠান ঘিরে পড়ুয়াদের সঙ্গে আয়োজকদের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত। রবিবারের ঘটনার পর সোমবারও প্রতিষ্ঠানের বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পঞ্চসায়র থানায় তিনটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রবিবার দুপুরে এসআরএফটিআইয়ের অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির (ABGP) অনুষ্ঠান চলছিল। সংগঠনটির দাবি, নিয়ম মেনেই অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে কর্মসূচি করা হচ্ছিল। অন্য দিকে, পড়ুয়াদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে কী ভাবে এই ধরনের সংগঠনের অনুষ্ঠান হচ্ছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই প্রথমে বচসা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিবাদ করতে গেলে আয়োজকদের কয়েকজন পড়ুয়াদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ। ছাত্রীদেরও হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, তাঁদের উদ্দেশে বিভিন্ন অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল।
অন্য দিকে, আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পড়ুয়ারাই অনুষ্ঠানে ঢুকে ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে দেন। ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি নষ্ট করার অভিযোগও উঠেছে। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠান বানচাল করার চেষ্টা থেকেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। দুই পক্ষের অভিযোগই পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
এরপর ক্যাম্পাসে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। বাইরে জমায়েত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)-এর বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেয়।
সংঘর্ষে একাধিক পড়ুয়া ও শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে খবর। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার (Times of India) প্রতিবেদনে প্রায় ৩০ জন পড়ুয়া এবং দু’জন শিক্ষক আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য একটি প্রতিবেদনে আয়োজক পক্ষের কয়েকজন সদস্যও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর পঞ্চসায়র থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি একটি অভিযোগ করেছে। পড়ুয়াদের একাংশের তরফেও পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তৃতীয় মামলাটি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে করেছে। তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এসআরএফটিআইয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ কবে ফিরবে এবং তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সে দিকেই নজর রয়েছে।
