32 C
Kolkata
September 28, 2026
দেশ

দু’দিনের প্রবল বৃষ্টিতে শুধু উত্তরপ্রদেশেই মৃত ১৭

একদিকে বন্যা, অন্যদিকে খরা

লখনউ: বর্ষা বিদায়ের সময় এগিয়ে এলেও দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির দাপট কমেনি। গত ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় জলমগ্ন হয়েছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। প্রশাসনের তরফে বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। রাজ্যের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৬৩টিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ তহবিল বিভাগের কমিশনার ভাস্কর যশোদা। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যাওয়ার পাশাপাশি ঝড় ও বৃষ্টির জেরে বাড়িঘর এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগের জেরে আমেথি, বস্তী, ফতেহপুর, হামিরপুর, হারদোই, বরাবাঁকি এবং কানপুর নগরে এক জন করে মারা গিয়েছেন। অযোধ্যায় দু’জন এবং লখিমপুর খেরিতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বাহরাইচে দেওয়াল ধসে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে দু’দিনে উত্তরপ্রদেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭।

প্রবল বৃষ্টির সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। বহু কৃষিজমিতে জল জমে থাকায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিচু জমিতে দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে আমন ধান-সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হতে পারে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ক্ষতির খবর সামনে এসেছে।

ওড়িশাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত ৪৮ ঘণ্টার ঝড়বৃষ্টিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

বিহারে নেপাল ও সংলগ্ন অববাহিকায় লাগাতার বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। অতিবৃষ্টির জেরে বাল্মীকিনগর জলাধার থেকে জল ছাড়ায় গণ্ডক নদীর জলস্তর বাড়ছে। কোথাও কোথাও নদীর জল উপচে গ্রামে ঢুকে পড়েছে। জলমগ্ন হয়েছে বাড়িঘর। জলাধার থেকে জল ছাড়ার পাশাপাশি লাগাতার বৃষ্টিও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

ছত্তিশগড়েও অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রশাসনের তরফে আটটি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কোণ্ডাগাঁওয়ে জলমগ্ন ধানজমিতে মাছ ধরতে গিয়ে নালায় পড়ে যান ৪০ বছরের এক যুবক। পরে জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়।

দেশের অন্য প্রান্তে আবার সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি মহারাষ্ট্রে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষার মরসুমে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। অমরাবতী, সোলাপুর ও লাতুর-সহ অন্তত ছয় জেলায় ঘাটতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। শনিবার রাজ্যের ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। ফলে একই সময়ে দেশের একাধিক এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বৃষ্টির ঘাটতির দুই বিপরীত ছবি সামনে এসেছে।

Related posts

Leave a Comment