28 C
Kolkata
September 27, 2026
রাজ্য

২৭ লক্ষ ভোটার বাদ যাওয়ার দায় মমতার নয়, আদালতের প্রক্রিয়ার কথা বলছে নথি: এসআইআর বিতর্কে শুভেন্দুর দাবি

সংবাদ কলকাতা:— পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবার দাবি করেছেন, এই নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা প্রায় ৬০ লক্ষ ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ চিহ্নিত ভোটারের নাম যাচাই করেছিলেন এবং তাঁদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২৭ লক্ষ নাম বাদের দায় বিজেপি ও কমিশনের নয়। মমতার মামলাতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করেছেন। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই বক্তব্য রাখেন।

তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রেক্ষাপট রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের যোগ্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক সেই যাচাইয়ের কাজ করেন। তাঁদের সিদ্ধান্তে প্রায় ২৭.১৬ লক্ষ নাম বাদ এবং প্রায় ৩২.৯ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে বাদ যাওয়া বা অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়।


অর্থাৎ, ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ যাওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ পরে আপিলও করেছেন। গত সপ্তাহে কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, মোট ৩৮.৩১ লক্ষ আপিলের মধ্যে ২২.২১ লক্ষ আবেদন করেছেন বাদ যাওয়া ভোটারেরা, যাঁরা নিজেদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বাদ যাওয়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের অবস্থানকেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘কেরলে এসআইআর ভালো, পশ্চিমবঙ্গে খারাপ। আমরা ২০৮ আসন পেয়েছি। ওরা দু’পক্ষ ৮০। জনতার রায় মানতে পারছেন না মমতা।’

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে কমিশনের অভ্যন্তরে ভোটার তালিকা পরিচালনা নিয়ে মতপার্থক্যের কথা উঠে এসেছে। তবে কমিশন পরে তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের কথা সামনে এনে নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।


ফলে ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি এখন শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রশাসনিক প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় যাচাই, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বাদ যাওয়া ভোটারদের আপিল—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই বিতর্ক চলছে। রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি আদালত ও আপিল ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্তও এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Related posts

Leave a Comment