September 24, 2026
রাজ্য

কালীঘাটে পুজো, বাংলায় বড় বিনিয়োগের বার্তা আদানির

সংবাদ কলকাতা: কথা ছিল আসবেন। সেই মতোই কলকাতায় এলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। বুধবার রাতে শহরে পৌঁছনোর পর বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী প্রীতি আদানিকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন শিল্পপতি। মায়ের দর্শন ও আরতি সেরে মন্দির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘জয় মা কালী’। এরপর নিউ টাউনে ২,০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।

কালীঘাটে পুজো দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নিজের সফরের কথা জানান গৌতম আদানি। তিনি লেখেন, বৃষ্টিভেজা কলকাতায় স্ত্রী প্রীতিকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে গিয়ে মা কালীর আশীর্বাদ নিয়েছেন। বাংলার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করার পাশাপাশি আগামী দিনের জন্যও আশীর্বাদ চেয়েছেন তিনি।

এর পরেই নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে গৌতম আদানির সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি, ছেলে করণ আদানি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রস্তাবিত এই হাসপাতাল হবে ২,০০০ শয্যার। প্রকল্পে ৪,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। হাসপাতালটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রকল্পের অর্ধেক শয্যা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় তাঁরা চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। হাসপাতালের পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজ, গবেষণা এবং উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প থেকে ১০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

শুধু হাসপাতাল নয়, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন গৌতম আদানি। বন্দর, পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, সড়ক, লজিস্টিকস এবং ডেটা সেন্টার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। ফলে নিউ টাউনের হাসপাতালকে ঘিরে শুরু হওয়া প্রকল্পের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক করেন গৌতম আদানি। রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে রাজ্য সরকারের তরফেও বলা হয়েছিল, বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য একাধিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আদানিদের বিনিয়োগের তালিকায় শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্রই নয়, কলকাতার পরিকাঠামো ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রকল্পও রয়েছে। কুমোরটুলি ঘাটের পুনর্নির্মাণের কাজ আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে কলকাতা বন্দরের সহযোগিতায় এগোচ্ছে। ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কার নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহ রয়েছে। রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শন করে প্রকল্প নিয়ে কাজ এগোনোর প্রস্তুতিও চলছে বলে আগে জানা গিয়েছিল।

দুর্গাপুজোকেও এই বিনিয়োগ-পর্বের সঙ্গে যুক্ত করছে আদানি গোষ্ঠী। কলকাতার আটটি দুর্গাপুজো বেছে নিয়ে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ২৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে তারা। পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ অক্টোবর ‘দুর্গাপুজো প্রিভিউ’ আয়োজন করা হবে। এই পরিক্রমায় দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট অতিথিদের কলকাতার বাছাই করা পুজো দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন ধরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত আটটি নির্বাচিত পুজো ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে।


দুর্গাপুজোর এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলার উৎসব, শিল্প ও সংস্কৃতিকে আরও বড় আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রিভিউ ট্যুর আয়োজনের কথা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী।

সব মিলিয়ে গৌতম আদানির কলকাতা সফরে একসঙ্গে উঠে এল ধর্মীয় আচার, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং বাংলার ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একাধিক উদ্যোগ। ২,০০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ঘোষণায় রাজ্যে আদানি গোষ্ঠীর আগামী দিনের পরিকল্পনাও আরও স্পষ্ট হল।

Related posts

Leave a Comment