নিজস্ব সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম— নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামায় বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। হলফনামার তথ্য খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। পাল্টা বিজেপির দাবি, হলফনামায় মুদ্রণগত ভুল থেকেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীর বয়স নিয়ে কোনও সমস্যা নেই বলেও দাবি পদ্ম শিবিরের।
কংগ্রেসের অভিযোগ, হাসিরানি রথ তাঁর হলফনামায় বয়স ৬০ বছর উল্লেখ করেছেন। একই নথিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করার কথা লেখা হয়েছে। এই দুই তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, বয়স ৬০ বছর হলে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করার তথ্য স্বাভাবিকভাবেই যাচাই করা প্রয়োজন।শুধু পাশের সাল নয়, যে স্কুলের নাম হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। হলফনামায় চৌখালি গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই স্কুলে ১৯৬৫ সালে দশম শ্রেণির অনুমোদন বা মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা চালু ছিল কি না, তা নিয়েও তথ্য যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
মঙ্গলবার বিবৃতিতে শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’র অভিযোগ সামনে আসার পরেও নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রার্থীর হলফনামায় থাকা বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য যথাযথ ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে কংগ্রেসের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, হাসিরানির বয়স নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, হাসিরানি ১৯৮০ সালে দশম শ্রেণিতে পড়তেন। হলফনামায় ১৯৬৫ সালের তথ্যটি মুদ্রণগত ভুলের কারণে এসেছে। নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে হাসিরানির জন্মের শংসাপত্রও প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপি। সেই শংসাপত্র অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সালের ৮ জুন।
হাসিরানির নির্বাচনী দফতরের তরফেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপি প্রার্থী সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘মাধ্যমিক’ পরীক্ষা চালু হয়নি। ফলে স্কুলটিরও মাধ্যমিক স্তরের অনুমোদন ছিল না। সেই কারণেই হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি প্রার্থীপক্ষের।
প্রার্থীপক্ষের আরও বক্তব্য, হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফলে সেখানে কোনও অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার প্রশ্ন নেই। কংগ্রেসের তরফে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’র যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে বিজেপি।হাসিরানি রথকে এবারের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি।তিনি নিহত ঘোষণা করা হয়। ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।
ফলে ভোটের আগে হলফনামা নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা ব্যাখ্যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হলফনামায় থাকা তথ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও পদক্ষেপ করে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
previous post
