September 14, 2026
খেলা

এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে বরুণ সান্যাল

নাগোয়া— ডব্লিউডব্লিউই, টিএনএ এবং ‘রকি বালবোয়া’র গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টসে পা রেখেছিলেন বরুণ সান্যাল। এবার সেই লড়াইয়ের খেলাতেই ভারতের হয়ে ইতিহাস গড়ার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি। আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসে প্রথমবার পদক ইভেন্ট হিসেবে জায়গা পেয়েছে এমএমএ। আর পুরুষদের ট্র্যাডিশনাল ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বরুণ। এশিয়ান গেমসের এমএমএ প্রতিযোগিতা ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর নাগোয়া সিটি ইনায়ে স্পোর্টস সেন্টারে হবে।

দু’বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন বরুণ চলতি বছর এশিয়ান এমএমএ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে এশীয় র‌্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এশিয়ান গেমসের জন্য প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৭ কেজি ট্র্যাডিশনাল বিভাগে তিনি বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

এবার এশিয়ান গেমসে এমএমএ-র ঐতিহাসিক অভিষেকে মোট ছ’টি পদক ইভেন্ট রয়েছে। পুরুষদের ট্র্যাডিশনাল বিভাগে ৬৫ ও ৭৭ কেজি এবং মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগ থাকছে। এর পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলাদের আধুনিক এমএমএ বিভাগও রয়েছে।

ডব্লিউডব্লিউই থেকেই শুরু আকর্ষণ

ছোটবেলায় পেশাদার রেসলিং দেখেই লড়াইয়ের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বরুণের। ডব্লিউডব্লিউই এবং টিএনএ ছিল তাঁর প্রথম আকর্ষণের জায়গা। পরে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক্সে সুশীল কুমার ও যোগেশ্বর দত্তের সাফল্য তাঁকে মার্শাল আর্টসের দিকে আরও টেনে নেয়।


বরুণের কাছে এমএমএ শুধু প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। এই খেলায় চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রতিপক্ষের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ করা এবং প্রয়োজনে আত্মরক্ষা করার মতো দক্ষতাও তৈরি হয় বলে মনে করেন তিনি।

সিঙ্গাপুরে বেড়ে ওঠা বরুণ ছোটবেলায় ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স এবং স্কোয়াশ খেলেছেন। পরে পাওয়ারলিফটিংয়ের পাশাপাশি রেসলিং, জিউ-জিৎসু এবং মুয়াই থাই নিয়েও অনুশীলন করেন। শেষ পর্যন্ত এমএমএই তাঁর প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

বরুণের বাবা অর্থনীতিবিদ ও লেখক সঞ্জীব সান্যালও তাঁর ক্রীড়া জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল, স্কোয়াশ, দৌড় এবং তায়কোয়ান্দোর মতো বিভিন্ন খেলায় ছেলেকে উৎসাহ দিয়েছেন তিনি। প্রথমদিকে এমএমএ নিয়ে কিছুটা সময় লাগলেও পরে ছেলের কেরিয়ারকে গভীরভাবে বুঝে পাশে দাঁড়ান।

এশিয়ান গেমসে সুযোগ, প্রস্তুতির সময় খুব কম

এশিয়ান গেমসে বরুণের জায়গা পাওয়ার পথও সহজ ছিল না। ২০২৫ সালের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পর তিনি চিনে এশিয়ান এমএমএ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন। সেখানকার ব্রোঞ্জ পদক তাঁকে এশীয় র‌্যাঙ্কিংয়ে তুলে আনে।

কিন্তু এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া নিয়ে শুরুতে স্পষ্টতা না থাকায় তিনি নিজের পেশাদার কেরিয়ারেই মন দেন। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে তাঁর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় প্রতিযোগিতা শুরুর মাত্র অল্প সময় আগে। ফলে এত বড় মঞ্চের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির সময়ও ছিল সীমিত।

এই পরিস্থিতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বরুণ। তবে তাঁর মতে, খেলাধুলায় অনিশ্চয়তা এবং শেষ মুহূর্তের চাপও প্রতিযোগিতারই অংশ।

ভারতে এমএমএ-র আরও প্রসার চান

এশিয়ান গেমসে এমএমএ-র অন্তর্ভুক্তিকে ভারতের এই খেলাটির জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বরুণ। তাঁর বিশ্বাস, এশিয়ান গেমসে জায়গা পাওয়ার ফলে দেশে এই খেলাটির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে এবং নতুন প্রজন্মের অনেক ক্রীড়াবিদ এমএমএ-র দিকে আসবেন।

ভারতে এমএমএ নিয়ে সরকারি আগ্রহ বাড়লেও ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। নিজের কেরিয়ারে বেসরকারি সংস্থার সহায়তার কথাও জানিয়েছেন বরুণ।


এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতের অনুমোদিত দলেও এমএমএ-তে বরুণের নাম রয়েছে। সাম্প্রতিক সংশোধনের পর ভারতের মোট ক্রীড়াবিদ সংখ্যা ৫০৩-এ পৌঁছেছে এবং দেশ ৩৬টি খেলায় অংশ নেবে। এমএমএ-র পাশাপাশি এ বার নতুন করে সার্ফিংও এশিয়ান গেমসে জায়গা পেয়েছে।

বরুণ মনে করেন, ভারতে কুস্তি বা বক্সিংয়ের মতো এমএমএ-তেও ভবিষ্যতে প্রতিটি ওজন বিভাগে শক্তিশালী প্রতিযোগী তৈরি করা সম্ভব। তাঁর নিজের পারফরম্যান্স তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রশ্ন নয়—এশিয়ান গেমসে এমএমএ-র প্রথম পদক লড়াই ভারতের এই খেলাটির ভবিষ্যতের দিকও অনেকটা নির্ধারণ করতে পারে।

Related posts

Leave a Comment