September 14, 2026
খেলা

দ্বিতীয় টি-২০তেই সিরিজ জয়ের লক্ষ্য ভারতের

দিল্লি— আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ জয়ের সামনে ভারত। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটে দাপুটে জয় পেয়েছে ভারত। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা শ্রীয়স আইয়ারের দলের সামনে এখন লক্ষ্য আরও একটি জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া। অন্যদিকে, সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জিততেই হবে ইব্রাহিম জাদরানের আফগানিস্তানকে।

প্রথম ম্যাচেই দুই দলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে ভারতের বোলিংয়ের সামনে কার্যত ভেঙে পড়েছিল আফগানিস্তানের টপ অর্ডার। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে ৪৩ রানে পাঁচ উইকেটে নেমে গিয়েছিল তারা। সেখান থেকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মহম্মদ নবীর ৮৩ রানের জুটি পরিস্থিতি সামাল দেয়। ওমরজাই ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৪ রান করে আফগানিস্তানকে ১৫৬ রানে পৌঁছে দেন। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং ১৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে কার্যত একতরফা লড়াই করে ভারত। আফগান বোলারদের বিরুদ্ধে ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩২ বলে ৮২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি ছক্কা ও সাতটি চার। অভিষেকের দাপটে আফগানিস্তানের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণও ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পায়নি। ঈশান কিষাণ ৪২ রান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন। মাত্র ১৩.৪ ওভারেই ১৫৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।


দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে ভারতের নতুন বলের আক্রমণ সামলানো। প্রথম ম্যাচের শুরুতেই জসপ্রীত বুমরাহর বলে শূন্য রানে ফেরেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। টপ অর্ডারের অন্য ব্যাটাররাও বড় রান করতে পারেননি। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে ইব্রাহিম জাদরান ও গুরবাজকে অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। শুরুটা ভালো করতে পারলে তবেই আফগানিস্তানের মিডল অর্ডার ও স্পিনাররা ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারবেন।

প্রথম ম্যাচে ওমরজাইয়ের অপরাজিত ৬৪ রান অবশ্য আফগানিস্তানের জন্য আশার জায়গা। মহম্মদ নবীর অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি রশিদ খান, নূর আহমদ, মুজিব উর রহমান ও নাঙ্গিয়াল খারোটিকে নিয়ে আফগানিস্তানের স্পিন বিভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী। নাভিন-উল-হকের প্রত্যাবর্তনে পেস আক্রমণও আরও শক্তিশালী হয়েছে।

প্রথম ম্যাচে জয়ের পর ভারতীয় শিবিরেও তৈরি হয়েছে নির্বাচনের আকর্ষণীয় সমীকরণ। সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক শ্রীয়স আইয়ার অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে দলে থাকা ‘বিলাসবহুল বিকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। প্রথম ম্যাচে অভিষেক ও সঞ্জুকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়। বৈভব সুযোগ পাননি। তবে অভিষেকের ৮২ রান তাঁকে ফের প্রথম একাদশে রাখার দাবি আরও জোরালো করেছে। অন্যদিকে সঞ্জু ১০ রান করায় ওপেনিংয়ের লড়াই এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

ঈশান কিষাণের ৪২ রানও ভারতীয় দলের ব্যাটিং গভীরতা আরও বাড়িয়েছে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে দল নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে কিছুটা ভাবতে হতে পারে। বোলিং বিভাগ অবশ্য প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। চোট কাটিয়ে ফিরে বুমরাহ শুরুতেই প্রভাব ফেলেছেন। অর্শদীপ তিন উইকেট নিয়ে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীও উইকেট পেয়েছেন।

তবে বুমরাহর ওয়ার্কলোড নিয়েও ভারতকে সতর্ক থাকতে হবে। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির কথাও মাথায় রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। অনুশীলনের সময় রেক্টাস ফেমোরিসে চোট পাওয়ায় হর্ষিত রানা এই সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছেন। তাঁর পরিবর্তে দলে যোগ দিয়েছেন যশ ঠাকুর।


আফগানিস্তানের কাছে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচটি শুধু সিরিজ সমতায় ফেরার লড়াই নয়, প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা যে নিছক খারাপ দিন ছিল, সেটাও প্রমাণ করার সুযোগ। পূর্ণ সময়ের টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে ইব্রাহিম জাদরানের এটিই প্রথম সিরিজ। ফলে তাঁর নেতৃত্বেরও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। দলের হাতে রশিদ, নবী, ওমরজাইয়ের মতো অভিজ্ঞ ও ম্যাচ ঘোরাতে সক্ষম ক্রিকেটার রয়েছেন। কিন্তু তিন বিভাগেই একসঙ্গে ভালো পারফরম্যান্স করতে না পারলে ভারতের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

ভারতের লক্ষ্য তাই পরিষ্কার— দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ পকেটে পুরে ফেলা। আর আফগানিস্তানের সামনে একটাই পথ— জিততেই হবে। প্রথম ছয় ওভারই ফের ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। ভারতীয় পেসারদের বিরুদ্ধে শুরুটা সামলে দিতে পারলে আফগানিস্তানের স্পিনার ও মিডল অর্ডারের সামনে ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু ফের দ্রুত উইকেট পড়লে সিরিজ জয়ের পথে ভারতকে আটকানো কঠিন।

ম্যাচের সময়: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট
ভেন্যু: অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, দিল্লি
টিভি সম্প্রচার: সনি স্পোর্টস টেন ৩, সনি স্পোর্টস টেন ৪ ও সনি স্পোর্টস টেন ৫
লাইভ স্ট্রিমিং: ফ্যানকোড অ্যাপ ও ওয়েবসাইট

ভারত: শ্রীয়স আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), ঈশান কিষাণ (উইকেটরক্ষক), তিলক বর্মা (সহ-অধিনায়ক), শিবম দুবে, নীতীশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, বরুণ চক্রবর্তী, রবি বিষ্ণোই, জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং, যশ ঠাকুর।

আফগানিস্তান: ইব্রাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নূর রহমান (উইকেটরক্ষক), সেদিকুল্লাহ আতাল, দারবিশ রাসুলি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবদিন নাইব, মহম্মদ নবী, রশিদ খান, নাঙ্গিয়াল খারোটি, নূর আহমদ, মুজিব উর রহমান, ফজলহক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমদজাই, নাভিন-উল-হক।

Related posts

Leave a Comment