September 13, 2026
খেলা

ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী হরমনপ্রীত, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ফেরানোর লক্ষ্যে ভারত

দুবাই— অপরাজিত থেকে মহিলা টি-২০ এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ভারত। রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মহারণে নামার আগে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর জানিয়ে দিলেন, ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দলের উন্নতি তাঁকে আশাবাদী করে তুলেছে। ২০২৪ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের স্মৃতি অবশ্যই রয়েছে, তবে এবার সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়েই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মাঠে নামছে ভারত।

প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ভারত। সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় হরমনপ্রীতের দল। অন্য দিকে, শ্রীলঙ্কা শেষ চারে পাকিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়ে খেতাবি লড়াইয়ে এসেছে। দুই দলই এখনও পর্যন্ত অপরাজিত।

ফাইনালের আগে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হরমনপ্রীত। তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পরিবেশ ও উইকেটের সঙ্গে আরও বেশি মানিয়ে নিয়েছে ভারতীয় দল। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও ধারাবাহিকতা এসেছে। ফিল্ডিংয়েও উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। তাই ফাইনালে নতুন করে কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে না গিয়ে নিজেদের শক্তির উপরই ভরসা রাখতে চান ভারত অধিনায়ক।


হরমনপ্রীতের কথায়, প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত দলের সার্বিক উন্নতিই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। প্রতিদিন ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে দল আরও পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চান তিনি।

এবারের এশিয়া কাপে ভারতের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা। শেফালি এখনও পর্যন্ত ১৬৮ রান করেছেন, আর স্মৃতির ব্যাট থেকে এসেছে ১৫৪ রান। বোলিংয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছেন দীপ্তি শর্মা। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১১টি উইকেট।

তবে ফাইনালের আগে ভারতের জন্য একটি চিন্তার জায়গা ফিল্ডিং। এখনও পর্যন্ত চার ম্যাচে ভারতীয় দল ন’টি ক্যাচ ফেলেছে। বড় মঞ্চে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে বিপদ বাড়তে পারে। শ্রীলঙ্কাও যে কোনও সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৩৩ রানে চার উইকেট হারিয়েও ম্যাচ জিতে তারা নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছে।

২০২৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও এই ম্যাচকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। সেবার ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার মহিলা এশিয়া কাপের খেতাব জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। তার আগে ২০২২ সালের ফাইনালে ভারতই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার তাই শিরোপা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি আগের ফাইনালের হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও রয়েছে হরমনপ্রীতদের সামনে।


হরমনপ্রীত অবশ্য ফাইনালের চাপকে আলাদা করে দেখছেন না। তাঁর বার্তা পরিষ্কার—নতুন কিছু করার প্রয়োজন নেই। নিজেদের পরিকল্পনা মেনে খেলতে হবে, নিজেদের শক্তির উপর আস্থা রাখতে হবে এবং মাঠে খেলা উপভোগ করতে হবে। দেশের হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই চাপ ও প্রত্যাশা থাকে, কিন্তু সেই চাপকে দূরে সরিয়ে দলের জন্য নিজেদের সেরাটা দেওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রবিবার ভারতীয় সময় রাত ৮টায় দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হবে ফাইনাল। সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার অষ্টম এশিয়া কাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। শ্রীলঙ্কা চাইবে গতবারের সাফল্য ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি ঘরে তুলতে।

Related posts

Leave a Comment