26 C
Kolkata
September 8, 2026
খেলা

ব্যাট হাতে আগ্রাসন তো আছেই, রিভিউতেও বাজিমাত বৈভবের!

১৫ বছরেই নেতৃত্বের ছাপ

চেন্নাই: বয়স মাত্র ১৫। কিন্তু দলীপ ট্রফির ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি, তিনি ক্রিকেটে এখনও কিশোর। ব্যাট হাতে আগ্রাসনের পাশাপাশি মাঠে ক্রিকেটীয় বুদ্ধিরও পরিচয় দিচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী। দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ফাইনালে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়ে পর পর দু’টি সফল রিভিউ নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, নেতৃত্বের মঞ্চেও ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছেন তিনি।

দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংসের শুরুতেই বৈভবের ক্রিকেটীয় বুদ্ধির প্রথম ঝলক দেখা যায়। মুকেশ কুমারের একটি বল রিকি ভুঁইয়ের ব্যাট ঘেঁষে উইকেটরক্ষক কুমার কুশাগ্রের হাতে যায়। কুশাগ্র সঙ্গে সঙ্গে আউটের আবেদন করেন। স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা বৈভবও নিশ্চিত ছিলেন যে বল ব্যাটে লেগেছে। কিন্তু দলের অন্য ক্রিকেটাররা ততটা নিশ্চিত ছিলেন না।

ঠিক সেই সময় স্টাম্প মাইক্রোফোনে শোনা যায়, বৈভব বার বার অধিনায়ক ঈশান কিশনকে রিভিউ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর কথাতেই রিভিউ নেন ঈশান। তৃতীয় আম্পায়ারের পরীক্ষায় দেখা যায়, বল সত্যিই ব্যাটে লেগেছিল। রিকি ভুঁইকে আউট ঘোষণা করা হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়ে নজর কাড়েন বৈভব।

দ্বিতীয় সেশনে আরও এক বার একই ঘটনা ঘটে। মাঠ ছাড়েন ঈশান কিশন। ফলে সহ-অধিনায়ক বৈভবের হাতে চলে আসে নেতৃত্বের দায়িত্ব। সেই সময় মহম্মদ শামির একটি বল স্মরণ রবিচন্দ্রনের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের হাতে যায়। শামি নিজেও খুব একটা নিশ্চিত ছিলেন না। কিন্তু বৈভবের সন্দেহ ছিল না। তিনি রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। আবারও মেলে সাফল্য। স্মরণকে আউট করে দেন আম্পায়ার।

একটি ম্যাচে পর পর দু’টি সফল রিভিউ নেওয়া নিছক কাকতালীয় ঘটনা নয়। বৈভবের ক্ষেত্রে এর পিছনে রয়েছে বলের গতিপথ, ব্যাটারের প্রতিক্রিয়া এবং শব্দ—সব কিছু দ্রুত বিচার করার ক্ষমতা। ব্যাটার খোঁচা দিয়েছেন কি না, কিংবা এলবিডব্লিউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলি নিয়ে তাঁর বোঝাপড়া ইতিমধ্যেই নজর কাড়ছে।

শুধু দলীপ ট্রফির ফাইনালেই নয়, সেমিফাইনালেও নেতৃত্বের সুযোগ পেয়েছিলেন বৈভব। ঈশানের হাতে চোট লাগায় একটা সময় তাঁকেই দলের নেতৃত্ব সামলাতে হয়েছিল। সেই ম্যাচেও মধ্যাঞ্চলের ব্যাটার আরিয়ান জুয়ালের বিরুদ্ধে একটি রিভিউ নিয়ে সফল হয়েছিলেন তিনি।

ফাইনালে দায়িত্ব পাওয়ার পর অবশ্য বৈভবের নেতৃত্ব আরও পরিণত মনে হয়েছে। ফিল্ডিং সাজানো থেকে বোলিং পরিবর্তন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছে। মাঠে সিনিয়র বোলারদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বিশেষ করে মহম্মদ শামির মতো অভিজ্ঞ পেসারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফিল্ডিং সাজাচ্ছিলেন তিনি।

১৫ বছর বয়সে দলীপ ট্রফির ফাইনালের মতো ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই বড় পরীক্ষা। তার উপর বিপক্ষ দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ এবং প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটাররা। কিন্তু বৈভবকে দেখে এক বারও মনে হয়নি, চাপ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। বরং সুযোগ পেয়েই নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।

ব্যাট হাতে বৈভবের আগ্রাসন ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোচনার বিষয়। কিন্তু তাঁর ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ক এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতার এই ঝলক ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় বার্তা দিচ্ছে। বয়স এখনও ১৫, কিন্তু মাঠে পরিস্থিতি পড়ার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখে মনে হচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটে শুধু বিস্ফোরক ব্যাটার হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতের নেতা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে বৈভবের।

দলীপ ট্রফির ফাইনালে তাঁর নেওয়া দু’টি সফল রিভিউ আপাতত সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যাট হাতে রান করার পাশাপাশি ক্রিকেটের সূক্ষ্ম দিকগুলি বোঝার এই ক্ষমতাই ভবিষ্যতে বৈভবকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দিতে পারে।

Related posts

Leave a Comment