26 C
Kolkata
September 9, 2026
রাজ্য

মমতার কর্মসূচির আগে রিষড়ায় জাহিদের বাড়িতে পুলিশের হানা, ছেলেকে থানায় হাজিরার নির্দেশ

রিষড়া: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে চাপানউতোরের মধ্যেই রিষড়ায় প্রাক্তন পুরপ্রধান জাহিদ হাসান খানের বাড়িতে পুলিশের অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মঙ্গলবার আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে জাহিদের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে তাঁর এবং তাঁর পুত্র শাহিদের খোঁজ করা হয়। পরিবারের তরফে জানানো হয়, বাবা ও ছেলে কেউই বাড়িতে নেই।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহিদের পুত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলায় আদালতের পরোয়ানা রয়েছে বলেই তাঁকে আটক করতে পুলিশ বাড়িতে গিয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ তাঁকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে।

পরিবারের দাবি, জাহিদ ও তাঁর ছেলে বাড়িতে না থাকার কথা জানানোর পরেও পুলিশ বাড়ির সামনে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে। সেই সময় পুলিশকর্মীদের চিৎকার করে কথা বলতেও শোনা যায়। পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ওই আধিকারিক হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, প্রতিদিন ওই বাড়িতে পুলিশ আসবে এবং পরিবারের পক্ষে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠবে।


এই ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আগামী শুক্রবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচির আগে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভয় দেখাতেই পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য পুলিশ অনুমতি দেয়নি— এই অভিযোগ তুলে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। তার পরেই হুগলি জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধরপাকড় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রিষড়ায় জাহিদের বাড়ির সামনে থেকে তাঁর চার অনুগামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগ। ডানকুনিতেও দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা সামনে এসেছে। পুলিশের বক্তব্য, ধৃতদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দাবি, কয়েক জনের বিরুদ্ধে আবাসনের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। আবার কয়েক জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা-সহ গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। ফলে তাঁদের গ্রেপ্তারির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পর্ক নেই বলেই পুলিশের বক্তব্য।


অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই ধরপাকড়ের মাধ্যমে তৃণমূলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হলেও তা সফল হবে না বলেই দাবি তাঁর।

মমতার শ্রীরামপুর সফরের আগে হুগলি জেলায় একের পর এক গ্রেপ্তারি এবং রিষড়ায় জাহিদ হাসান খানের বাড়িতে পুলিশের অভিযানে ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। পুলিশের দাবি, তারা আদালতের পরোয়ানা এবং পুরনো মামলার ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ করছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, পুরো ঘটনাই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল।

Related posts

Leave a Comment