নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ— মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Malda Medical College) শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘিরে তদন্তের মধ্যেই হাসপাতালের সুপার তথা এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর (Health Department) সূত্রে খবর। আগস্ট মাসে ৮৯ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য সামনে আসার পর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়।
শিশুমৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল (Expert Team) মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছিল। দলের সদস্যরা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা, পরিকাঠামো, শিশু বিভাগে রোগীর চাপ এবং মৃত শিশুদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন। প্রতিটি শিশুর চিকিৎসার ইতিহাস, হাসপাতালে ভর্তির সময়কার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার ধরন এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যভবনে (Swasthya Bhavan) রিপোর্ট জমা পড়ে। সেই রিপোর্টের পরেই হাসপাতালের সুপারকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার গুরুত্ব বাড়ে আগস্ট মাসে একদিনে ১০ শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর। পরবর্তী তিন সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬০-র বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮৯-তে পৌঁছয়। এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতালের শিশু বিভাগ (Child Department), চিকিৎসা পরিষেবা এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিশেষ করে একদিনে এত শিশুর মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরিকাঠামো ছিল কি না এবং শিশু বিভাগে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানোর মতো ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসে।
তবে ৮৯টি মৃত্যুর সবকটিই চিকিৎসায় গাফিলতির (Medical Negligence) কারণে হয়েছে, এমনটা এখনও নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অপুষ্টি, জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মের মতো একাধিক গুরুতর কারণ উঠে এসেছে। তাই প্রতিটি মৃত্যুকে পৃথক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান চিকিৎসক প্রলয় আচার্য জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফেও জানানো হয়েছে, তদন্তে যদি কোনও আধিকারিক বা চিকিৎসাকর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
ফলে মালদহ মেডিক্যাল কলেজের শিশুমৃত্যু (Malda Medical College Child Deaths) নিয়ে এখন স্বাস্থ্যভবনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতি, হাসপাতাল পরিচালনায় ত্রুটি এবং নজরদারির কোনও ঘাটতি ছিল কি না—পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।
