নিজস্ব সংবাদদাতা: তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ন’জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর বীরভূমে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যেই আগামী শনিবার বীরভূম সফরে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সময়ে সামনে কৌশিকী অমাবস্যা। ফলে তারাপীঠে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সম্ভাব্য ভিড় সামলানো এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকানো এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। রামপুরহাটের রক্তকরবী পুরমঞ্চে প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকও হয়েছে। আগামী শনিবার সকালে চিলারমাঠে হেলিকপ্টারে নামার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেখান থেকে তিনি তারাপীঠ মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন। এরপর রক্তকরবী পুরমঞ্চে প্রশাসনিক রিভিউ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নিজেদের দফতরের কাজের রিপোর্ট তৈরিতে ব্যস্ত আধিকারিকরা।

বীরভূমের রাজস্ব আদায় নিয়েও সরকারের নজর রয়েছে। পাথর শিল্পক্ষেত্রে লিকেজ বন্ধ করে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি টুলু মণ্ডলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাও প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির আয় ও কাজের রিপোর্টও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী কোন পথে মন্দিরে প্রবেশ করবেন, কোথায় বসবেন, মন্দিরের পক্ষ থেকে কীভাবে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হবে এবং কোন কোন সেবাইত উপস্থিত থাকবেন—এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে মন্দির কমিটির কাছে।একইসঙ্গে কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতিও চলছে।
এই তিথিতে তারাপীঠের সমাগম হয়। সেই বিপুল ভিড় সামলাতে রামপুরহাটের মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোরের উপস্থিতিতে বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠকে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, তারাপীঠ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সদস্য তথা মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায়-সহ পিএইচই, পিডব্লুডি, দমকল, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহণ এবং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মন্দির ও মহাশ্মশান চত্বর পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে জীবিতকুণ্ড ও পূর্বসাগর পুকুর থেকে পাম্পের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। দ্বারকা নদে প্রশিক্ষিত ডুবুরি মোতায়েন থাকবে। পুণ্যার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জলের পাউচ বিতরণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মন্দিরে আগে থেকেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। তারাপীঠের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর কৌশিকী অমাবস্যার আগে সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।
