31 C
Kolkata
August 22, 2026
কলকাতা

যাদবপুরের ঐতিহাসিক প্রতীক ভাঙচুরে নিন্দা অগ্নিমিত্রার, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নয়’ বার্তা

সংবাদ কলকাতা:— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে ঐতিহাসিক প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর নিন্দা করলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। এমনকি নিজের দলের কেউ ঘটনায় জড়িত থাকলেও তা সমর্থন করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মন্ত্রী।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের সময় শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহাসিক প্রতীকটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রতীক পদাঘাত করার দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকের এমন অবমাননা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের একাংশ।

এই ঘটনার পর বিজেপির কয়েক জন নেতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। দিলীপ ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দেন। অর্জুন সিংহও ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। তবে তাঁদের তুলনায় ভিন্ন সুর শোনা যায় অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যে।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় থেকে চলে আসা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিশেষ খ্যাতি এবং প্রতীক ছিল, সেটি যদি ভেঙে ফেলা হয় বা বাইরের ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে, তা হলে আমরা সমর্থন করি না। সে যে দলেরই হোক, এমনকি আমার দলের লোক হলেও আমরা সমর্থন করব না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও সরব হন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক সংঘাতের জায়গা করা উচিত নয়। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও সংঘাত শিক্ষাঙ্গনের বাইরে রাখার পক্ষেই মত দেন তিনি।

জ্যে শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অতীতের বিতর্কের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। আগের সরকারের সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যে অভিযোগ উঠত, তার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনীতির প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।


যাদবপুরের প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও। তাঁর বক্তব্য, প্রতীকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরে মেরামত করা সম্ভব হলেও সেটির যে ভাবে অসম্মান করা হয়েছে, সেটিই বেশি উদ্বেগের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেও মত তাঁর।

ঘটনার পর এফআইআর দায়ের করতে দেরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানিয়েছেন, এফআইআর করতে কেন দেরি হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে। তাঁর কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতীকটি ভাঙার ঘটনায় জড়িত কেউ কেউ দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষ এবং তার জেরে ঐতিহাসিক প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে বিরোধী ও শাসক শিবিরের নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্ন—দুই বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সম্পত্তির ক্ষতি বরদাস্ত করা হবে না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক সংঘাত থেকে শিক্ষাঙ্গনকে দূরে রাখার বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

Related posts

Leave a Comment