31 C
Kolkata
August 22, 2026
দেশ

জেন জেড-দের মন বুঝতে বিজেপির বিশেষ কমিটি, তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে জোর

নয়াদিল্লি— দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন জেড-দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বিশেষ কমিটি গড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার নয়াদিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে নতুন পদাধিকারীদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এই কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই এই কমিটি তরুণদের সঙ্গে জনসংযোগের কাজ শুরু করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

দলীয় সূত্রের খবর, কমিটিতে নিতিন নবীন ছাড়াও রয়েছেন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani) ও বিনোদ তাওড়ে (Vinod Tawde), গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি (Harsh Sanghavi) এবং আরও কয়েক জন নেতা। তরুণ প্রজন্মের ভাবনা, উদ্বেগ, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি জানতেই এই উদ্যোগ বলে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে।

বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে জেন জেড-দের সঙ্গে একাধিক কর্মসূচি করা হবে। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি বিজেপি নেতাদের জানানোর সুযোগও দেওয়া হবে। দল মনে করছে, তরুণদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হলে তাঁদের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক ভাবনার পরিবর্তন আরও কাছ থেকে বোঝা সম্ভব হবে।

৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে সাধারণ ভাবে জেন জেড বলা হয়। প্রযুক্তির সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত এই প্রজন্ম স্মার্টফোন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং সমাজমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের মধ্যে বড় হয়েছে। ফলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপি।

সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্মের বিভিন্ন আন্দোলন ও ক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই বিজেপির এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার জেরে পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সময় তরুণ ও পড়ুয়াদের একাংশ রাস্তায় নেমে আন্দোলনও করেন।

এই পরিস্থিতিতে তরুণদের কাছে পৌঁছতে সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিভিন্ন বার্তায় তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আইন সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি দিল্লিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনাও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছিল। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছিল। তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভের রাজনৈতিক গুরুত্বও বিজেপি নেতৃত্বের নজরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও শনিবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানো এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিজেপির নতুন পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছিল। দলের ৬৫ জন পদাধিকারীর মধ্যে ৫১ জনই নতুন মুখ। জাতীয় সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নেতা রাম মাধব। আট জন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে রয়েছেন স্মৃতি ইরানি।

জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে বিএল সন্তোষ বহাল রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বিনোদ তাওড়ে এবং সুনীল বনসল। নতুন সাংগঠনিক দলে ১২ জন মহিলা এবং ছয় জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকেও জাতীয় অধ্যক্ষ পদে ফের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দিকে, দলের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অমিত মালব্যের পরিবর্তে সমাজমাধ্যমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তিশগড়ের দীপক মাশকেকে। লোকসভা সাংসদ তেজস্বী সূর্যের পরিবর্তে বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে হেমাঙ্গ জোশীকে।

সব মিলিয়ে, নতুন কমিটির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার পরিকল্পনাই স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমনির্ভর নতুন প্রজন্মের মতামত, সমস্যা ও প্রত্যাশাকে সরাসরি রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment