31 C
Kolkata
August 20, 2026
রাজ্য

খড়গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন, যাত্রী ও শিল্পে বড় সুবিধার সম্ভাবনা

খড়গপুর—পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। খড়গপুর থেকে ওড়িশার ভদ্রক পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চতুর্থ রেললাইন তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ব্যস্ত এই রেলপথে নতুন লাইন তৈরি হলে ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে রেলপথের উপর চাপ কমার পাশাপাশি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল আরও মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি মোট ৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম খড়গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন। ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

খড়গপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলকেন্দ্র। এই পথে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে অতিরিক্ত একটি লাইন তৈরি হলে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জংশন এবং আউটার এলাকায় ট্রেন আটকে থাকার প্রবণতা কমিয়ে পরিষেবা আরও স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে যাত্রীদের যাত্রার সময়ও কমতে পারে।

এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু যাত্রী পরিষেবায় সীমাবদ্ধ নয়। পূর্ব ভারতের শিল্পাঞ্চলের জন্যও খড়গপুর-ভদ্রক রেললাইন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কয়লা, ইস্পাত, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট, সার, গাড়ি, পণ্যবাহী পাত্র এবং খাদ্যশস্যের মতো পণ্য দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর সুযোগ বাড়বে। রেলে পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা বাড়লে জাতীয় সড়কের উপর ভারী পণ্যবাহী গাড়ির চাপও কমতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার বহু মানুষের জীবিকা, ব্যবসা ও শিক্ষার সঙ্গে এই রেলপথের যোগাযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিক কাজের সূত্রে ওড়িশায় যাতায়াত করেন। একই ভাবে ওড়িশার বহু মানুষ কাজ, ব্যবসা ও শিক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গে আসেন। উন্নত রেল পরিষেবা দুই রাজ্যের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ করতে পারে।

শিল্পের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রেলপথে কাঁচামাল দ্রুত কারখানায় পৌঁছে দেওয়া এবং তৈরি পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর সুযোগ বাড়বে। এতে পরিবহণের সময় ও খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি বড় শিল্পাঞ্চল এবং বন্দরগুলিও এই প্রকল্পের সুফল পেতে পারে।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্প শুধু রেল যোগাযোগের পরিকাঠামো শক্তিশালী করবে না, পূর্ব উপকূলীয় রেল করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বড় ভূমিকা নেবে। তাঁর মতে, উন্নত রেল যোগাযোগ যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চতুর্থ রেললাইন তৈরি হলে খড়গপুর-ভদ্রক অংশে একই সময়ে আরও বেশি সংখ্যক ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরি হবে। নতুন ট্রেন চালু করা বা পরিষেবার সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও রেলের হাতে অতিরিক্ত পরিসর আসবে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে রেল যোগাযোগকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারে।

শুধু ট্রেন চলাচল নয়, এই প্রকল্পের সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিরও যোগ রয়েছে। একটি ব্যস্ত রেলপথে অতিরিক্ত লাইন তৈরি হলে পণ্য পরিবহণের গতি বাড়ে এবং শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ আরও সহজ হয়। সেই দিক থেকে খড়গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন পূর্ব ভারতের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ বাড়লে সড়কের উপর চাপ কমানোর সুযোগও তৈরি হবে। দীর্ঘ দূরত্বে ভারী পণ্য রেলে পরিবহণ করা গেলে পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যা কমতে পারে। এতে জ্বালানি খরচ কমার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর চাপও কিছুটা কমবে।

সব মিলিয়ে খড়গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইনকে শুধু নতুন একটি রেললাইন তৈরির প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে যাত্রী পরিষেবা, শিল্প, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহণ আরও শক্তিশালী করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে দুই রাজ্যের সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে শিল্প ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র—সবাই এর সুফল পেতে পারেন।

Related posts

Leave a Comment