শ্রীলঙ্কার স্পিন সহায়ক উইকেটে যাবতীয় সংশয় উড়িয়ে দিয়ে গল টেস্টে স্বাগতিকদের ১৬৫ রানে হারাল ভারত। ভারতের ৬০০তম টেস্টে এই জয় যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকল, তেমনই নিজের দ্বিতীয় টেস্টে মানব সুথারের দুরন্ত বোলিং ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন আশার আলো দেখাল।
প্রথম ইনিংসে ভারত ৪৬২ রানের বড় স্কোর করার পর থেকেই চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। জবাবে তারা ২৮৪ রানে অলআউট হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ১৯৩ রানে গুটিয়ে গেলেও শ্রীলঙ্কার সামনে ৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য রেখে দেয়।
চতুর্থ দিনের শেষে ৮৪ রানে চার উইকেট হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। পঞ্চম দিনে ধনঞ্জয় ডি সিলভা ও সোনাল দিনুশা ৯৫ রানের জুটি গড়ে কিছুটা লড়াই ফেরানোর চেষ্টা করেন। ধনঞ্জয় ৫৯ এবং দিনুশা ৮৪ রান করেন। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পরই দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত।

এই টেস্টের নায়ক অবশ্যই মানব সুথার। প্রথম ইনিংসে চার এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ছ’টি— দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেন রাজস্থানের ২৪ বছরের এই বাঁহাতি স্পিনার। নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই এমন পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শেষ দিকে ভয়াবহ ধস নামান সুথার। একই ওভারে সোনাল দিনুশা, প্রভাত জয়সূর্য এবং লাহিরু কুমারাকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর কেশরা নুয়ান্থার স্টাম্পও ছিটকে দেন। ১৯৯-৬ থেকে দ্রুত ১৯৯-৯ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ২০৬ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস।
দুই ইনিংস মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার ২০টি উইকেটের মধ্যে ১৫টিই নেন ভারতের স্পিনাররা। তার মধ্যে একাই ১০টি উইকেট সুথারের। প্রথম দুই টেস্টে তাঁর উইকেট সংখ্যা এখন ১৭। রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও কুলদীপ যাদবদের পর ভারতীয় স্পিন আক্রমণে নতুন প্রজন্মের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে ভারতের এই জয়ের নেপথ্যে ব্যাটারদের অবদানও কম নয়। প্রথম ইনিংসে দেবদত্ত পাডিক্কল ১৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ঋষভ পন্থ ৬৯ বলে ৬৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন পাডিক্কল।

অধিনায়ক শুভমান গিলও এই জয়কে ‘স্পেশ্যাল’ বলেছেন। আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ সম্পূর্ণ হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা থাকলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি।
গলে জয়ের ফলে দুই টেস্টের সিরিজে ভারত ১-০ এগিয়ে গেল। এবার কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে নামবে শুভমান গিলের দল। সেখানে জয় পেলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে ভারত।
