31.5 C
Kolkata
August 13, 2026
কলকাতা

কলকাতা-হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে নতুন নিয়ম

প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতা বাড়ল

সংবাদ কলকাতা: কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পথ আরও স্পষ্ট করতে বিধানসভায় দুটি সংশোধনী বিল পাশ হল। এর পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ চালুর মতো একাধিক সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের সামাজিক সুরক্ষা—একাধিক ক্ষেত্রে এই ঘোষণাগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিধানসভায় বুধবার কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত দুটি পৃথক সংশোধনী বিল ধ্বনিভোটে পাশ হয়। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজ হবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে। শুধু প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বদলীয় আলোচনার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে একটি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে আরও একটি সর্বদলীয় বৈঠক করার কথা জানানো হয়েছে।

বিধানসভায় বিল নিয়ে আলোচনার সময় সরকার স্পষ্ট করেছে, কোনও আইন বা বিধি এড়িয়ে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ করা হবে না। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সীমানা নির্ধারণ করা হবে। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার পরিষেবা আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই সংশোধনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

এর পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়কদের জন্যও বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এত দিন চিকিৎসা খরচের জন্য মাসে ৬ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হত। সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগস্ট মাস থেকেই বর্ধিত চিকিৎসাভাতা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের তরফে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু প্রাক্তন বিধায়ক দীর্ঘ সময় ধরে জনসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের বার্ধক্য ও অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। সেই কারণেই চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরকালীন ভাতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ জন্য আইন সংশোধনের পথেও এগোনো হতে পারে।

সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বিধায়কদের যোগাযোগের একটি স্থায়ী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য মাসে ৩০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রগুলিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখার নির্দেশও রয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে সেই ছবি বিধায়কদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই সেবাকেন্দ্রগুলির মাধ্যমে এলাকার মানুষের কাছে আরও দ্রুত সরকারি ও নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা ভোটের হিসাব না করে এলাকার সমস্ত মানুষের জন্য পরিষেবা নিশ্চিত করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক এমন সেবাকেন্দ্র চালু হয়েছে বলে সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে।

একই দিনে পুরসভা সংস্কার, প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধি এবং বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক সেবাকেন্দ্র চালুর মতো একাধিক ঘোষণা সামনে আসায় বিধানসভার এই পর্ব প্রশাসনিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মতামত কতটা গুরুত্ব পায় এবং পরবর্তী সময়ে পুর পরিষেবা কতটা উন্নত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Related posts

Leave a Comment